সোমবার দুপুরে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিবন্ধীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এটিএম আজহার বলেন, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে বের হতে না পারায় দেশ এগোতে পারছে না। নেতারা প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করছেন না। জনগণের স্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ায় দেশে অরাজকতা বাড়ছে।
১১ দলীয় জোটের লংমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ হয়েছে। জোটের দাবিগুলো জনগণের দাবি। বিদ্যুৎ সংকটে মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে, জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, গ্যাস সরবরাহের ঘাটতিতে শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সার সংকটে কৃষকরাও বিপাকে পড়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের পর নির্বাচনে গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাইয়ের পক্ষে রায় দিলেও সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর সেই রায় ভুলে গেছে। ঐকমত্য কমিশনে জুলাইয়ের দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে স্বাক্ষর করা হলেও এখন তা বাস্তবায়নে সরকারের আগ্রহ নেই।
এটিএম আজহার বলেন, সংসদের তিনটি অধিবেশন হয়ে গেলেও ১১ দলীয় জোটের দাবিগুলো নিয়ে কার্যকর আলোচনা হয়নি। জোট সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার পরও সরকার নিজেদের মতো করে কয়েকটি বিল পাস করেছে। এ কারণে জনগণের দাবিতে জোটকে মাঠে নামতে হয়েছে।
তিনি বলেন, লংমার্চে ব্যাপক জনসাড়া পাওয়া গেছে। বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ জোটের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এর আগে জামায়াতের আমির ও ১১ দলীয় জোটের নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলোর সমাধানের জন্য স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। প্রয়োজনে জরুরি সংসদ অধিবেশন ডাকার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার এতে সাড়া দেয়নি।
সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের রায়েই সংবিধান তৈরি হয়; তাই সংবিধানের আগে জনগণ। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সংবিধানসম্মত কি না—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। গণভোট ও জুলাই আন্দোলনের দাবিকে উপেক্ষা করলে জনগণ তা মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন।
এটিএম আজহার জানান, ১১ দলীয় জোটের পরবর্তী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চ করা হবে। এরপরও সরকার জনগণের দাবি মেনে না নিলে বিভাগীয় শহরগুলোতে লংমার্চ এবং পরে ঢাকায় সমাবেশ করে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করা হবে।
এর আগে সকালে বদরগঞ্জ উপজেলা চত্বরের পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত ও স্থানীয় মৎস্য চাষিদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রশাসন, জামায়াত, বিএনপি ও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক