সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে এ নিরাপত্তার নামে ইসলামের হেবা, ওয়াসিয়ত ও ফারায়েজের বিধান পাশ কাটানোর সুযোগ রাখা যাবে না। রোববার জাতীয় সংসদে বিলটি পাসের পর তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
মামুনুল হকের দাবি, জীবনকালীন ভোগাধিকার রেখে সম্পত্তি হস্তান্তরের নতুন বিধানটি শরিয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করা জরুরি। জীবিত অবস্থায় হেবা এবং মৃত্যুর পর ফারায়েজ অনুযায়ী উত্তরাধিকার—দুটি পৃথক বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন বিধান কোনো ওয়ারিশকে তার শরিয়াহ নির্ধারিত অধিকার থেকে বঞ্চিত করার সুযোগ তৈরি করছে কি না, তা নিশ্চিত করা দরকার।
তিনি বলেন, হেবার ক্ষেত্রে ইজাব, কবুল ও কবয গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গ্রহীতার বাস্তব দখল ও কর্তৃত্ব হেবা সম্পন্ন হওয়ার অন্যতম বিষয়। কিন্তু নতুন আইনে মালিকানা হস্তান্তরের পরও দাতার জীবদ্দশা পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগ ও ব্যবহার তাঁর কাছে রাখার সুযোগ থাকায় প্রকৃত হস্তান্তর ও কবয নিয়ে শরয়ী প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।
হেবা বণ্টনে সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচারের বিষয়েও ইসলামী নির্দেশনার কথা তুলে ধরেন মামুনুল হক। একই সঙ্গে হেবা, ওয়াসিয়ত ও ফারায়েজের মৌলিক পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে মুসলিম পারিবারিক আইন প্রণয়নের আগে আলেম, মুফতি, ফকীহ ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তার অভিযোগ, নতুন বিধানটি শরিয়াহর হেবা ও ফারায়েজের কাঠামো পাশ কাটিয়ে সম্পত্তির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের নতুন ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় সম্পত্তির ভোগ ও নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে রেখে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে হস্তান্তর করলে প্রকৃত মালিকানা, কবয ও হস্তান্তরের চূড়ান্ততা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
মামুনুল হক বলেন, হেবার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ওয়ারিশকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে অন্য ওয়ারিশদের বঞ্চিত করার পথ তৈরি করা উচিত নয়। এ ধরনের ব্যবস্থা ইসলামের উত্তরাধিকার ব্যবস্থার ন্যায়বিচারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারের পক্ষ থেকে নতুন বিধান সাধারণ হেবা বা মুসলিম আইনের হেবাকে প্রভাবিত করবে না—এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাস্তবে আইনটি শরিয়াহর হেবা কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে সম্পত্তির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের নতুন ব্যবস্থা তৈরি করছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
বিলটি দ্রুত পাস করায় উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ শরয়ী বিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়নের আগে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া উচিত ছিল।
মামুনুল হক বিএনপির ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও ইসলামবিরোধী আইন না করার রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাঁর প্রশ্ন, এসব অঙ্গীকারের পরও ইসলামের হেবা ও ফারায়েজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিধান এত দ্রুত পাস করা হলো কেন।
তিনি সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এর ১২২এ ও ১২২বি ধারা পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানান। পাশাপাশি বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে শরিয়াহর বিধান অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানান তিনি।

মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার