সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন প্রকল্পে ৬ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ দুদকের

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩০ রাত
  • ৩৬৫২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
অনুমোদন ছাড়াই কাজ ভাগ করে ৮ প্যাকেজ, চারটির বাস্তব অস্তিত্বই নেই

সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পে অনুমোদন ছাড়াই কাজ আটটি প্যাকেজে ভাগ করে দরপত্র আহ্বান এবং বাস্তবে কাজ না করেই বিল পরিশোধের মাধ্যমে প্রায় ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে নথিপত্র পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সরেজমিন তদন্তের পর এ তথ্য পায় দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদক সূত্র জানায়, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ২ হাজার ৭৯৫ কোটি ৮৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রকল্পের মূলধন অংশের ‘অনাবাসিক ভবন’ খাতে সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট/সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট কমিটি (সিসিজিপি) অনুমোদিত একমাত্র ডব্লিউ-১ প্যাকেজের কার্যাদেশ ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে (এনডিইএল) দেওয়া হয়। ওই কার্যাদেশের মূল্য ছিল ১ হাজার ৫৫৭ কোটি ৪ লাখ টাকা।

তবে ডিপিপি, আরডিপিপি কিংবা হেড অব দ্য প্রকিউরিং এনটিটির (হোপ) অনুমোদন ছাড়াই একই খাতের কাজ আরও আটটি পৃথক প্যাকেজে ভাগ করে ই-জিপিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এসব প্যাকেজের কার্যাদেশ দেওয়া হয় কামরুল এন্টারপ্রাইজ, মিম্পা এন্টারপ্রাইজ, আরএস এন্টারপ্রাইজ, গ্রাম বাংলা, গোমতি এন্টারপ্রাইজ, রশা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, কর্ণফুলী কনস্ট্রাকশন ও শোধেষ ডেভেলপমেন্টকে।

দুদকের হিসাবে, আট প্যাকেজের বিপরীতে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তবে সংস্থাটির প্রতিবেদনে বেতন বিলের নথিতে অর্থের পরিমাণ ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বলে উল্লেখ রয়েছে।

সরেজমিন তদন্তে আট প্যাকেজের মধ্যে চারটির কোনো ভৌত অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এগুলো হলো—নির্মাণকাজ উদ্বোধন উপলক্ষে অতিথি আপ্যায়নের জন্য ভেন্যু সংস্কার, ব্র্যান্ডিং ও ক্যাটারিং; ভাঙা গাইড ওয়াল, মাস্টার ড্রেন, র‌্যাম্প ও হাই-টেনশন কেবল লাইন অপসারণ; অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ এবং অস্থায়ী ড্রেন ও সিআই শিটের বেড়া নির্মাণ। এসব কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্র কিংবা মেজারমেন্ট বুকও পাওয়া যায়নি।

অন্য চারটি প্যাকেজে কাজের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও সেগুলো সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা করেননি বলে দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের জাজেস স্পোর্টস কমপ্লেক্সের পাশে নতুন বেকারি ও ক্যান্টিন নির্মাণ, রেকর্ড ভবনের তিনটি বেসমেন্ট ফ্লোর নির্মাণের জন্য অস্থায়ী ট্রিপল ওয়ার্ক স্থাপন ও বালু ভরাট, বৃষ্টির পানি অপসারণ এবং ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ মূল ঠিকাদার এনডিইএলই করেছে বলে নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, এনডিইএলের সঙ্গে করা মূল চুক্তি ও মেজারমেন্ট বুক পর্যালোচনাতেও বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া ১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা মূল্যমানের অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ প্যাকেজটির দর যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই অনুমোদিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। অর্থ বিভাগের ২০১৫ সালের ১৬ জানুয়ারির ক্ষমতা অর্পণসংক্রান্ত আদেশ অনুযায়ী, ১ কোটি থেকে ৩ কোটি টাকা মূল্যমানের দর অনুমোদনের ক্ষমতা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর।

দুদকের তদন্তে আরও বলা হয়েছে, মূল ডব্লিউ-১ প্যাকেজের সিভিল কাজ অনুমোদিত ডিপিপি, আরডিপিপি কিংবা হোপের বিধি লঙ্ঘন করে আটটি প্যাকেজে বিভক্ত করা হয়। পরে ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিল পরিশোধ করা হয়।

এর মধ্যে অন্তত চারটি প্যাকেজে কাজের বাস্তব অস্তিত্ব না থাকায় সরকারি অর্থের ক্ষতি ও আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক। এ ঘটনায় মূলত তৎকালীন ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে দায়ী করা হয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad