প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত ১১টার দিকে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সমর্থকরা জেলা শহরের তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি এমআর কলেজ মোড়ে পৌঁছালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের সমর্থকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।
একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ বাধে। এ সময় লাঠি হাতে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা মহাসড়কে অবস্থান নেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।
আহতরা হলেন—রোকনুজ্জামান জাপান (৩৫), আব্দুল বাতেন (৪০), শামীম (২৮), জীবন (২২), সাফাত কবির (২১), সাক্ষর (১৮), পাক্কু (২২), ময়নুল (২৮), তপু (১৮), মিলন (১৮), সৌমিক (১৯), ফরহাদ (১৮), করিম আখতার (৪৪), জিসান (১৭) ও নুরনবী চৌধুরী (৩৮)।
আহতরা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে রোববার সকালে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদের উপস্থিতিতে বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোল হয়। এর জের ধরেই রাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে।
পঞ্চগড় সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শইমী ইমতিয়াজ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স