ভ্যানচালক শাজাহান হত্যা: ৪ জনের যাবজ্জীবন

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত।
সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে ভ্যানচালক শাজাহান আলীকে হত্যা করে লাশ মাটিতে পুঁতে রাখার মামলায় চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। স্ত্রী-শ্বশুর-শাশুড়ির কারাদণ্ড ৫ বছরের

এ মামলায় নিহত শাজাহান আলীর স্ত্রী শিরিনা খাতুন, শ্বশুর সিরাজ আলী ও শাশুড়ি বানেছা বেগমকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর আসামি আসমা খাতুনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-৩ আদালতের বিচারক নজরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—কাজীপুর উপজেলার কুমারিয়াবাড়ী গ্রামের মেছের মেম্বরের ছেলে শিবলু, ফরিদ শেখের ছেলে লাল মিয়া, অহেজ আলীর ছেলে সুরুজ আলী এবং জসীম শেখের ছেলে হারুন।

আদালতের অতিরিক্ত পিপি এনামুল করিম শাহীন জানান, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে দীর্ঘ ১৫ বছর পর রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মামলায় মোট আটজন আসামির মধ্যে চারজনকে যাবজ্জীবন এবং নিহতের স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে হত্যা

মামলার অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে কাজীপুর উপজেলার কুমারিয়াবাড়ী গ্রামের সিরাজ আলীর মেয়ে শিরিনা খাতুনের সঙ্গে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বনগ্রাম গ্রামের আরফান আলীর ছেলে শাজাহান আলীর বিয়ে হয়। বিয়ের ছয় মাস পর শিরিনাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এর প্রায় ২০ দিন পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নিতে গেলে হারুন, শিবলু, সুরুজ ও লাল মিয়ার প্ররোচনায় শিরিনার মা-বাবা তাকে স্বামীর বাড়িতে যেতে বাধা দেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাজাহান ও শিরিনার মধ্যে পারিবারিক বিরোধ দেখা দেয়। পরে শাজাহান স্ত্রীকে আনতে শ্বশুরবাড়িতে গেলে শ্বশুর-শাশুড়ির অনুরোধে সেখানেই থেকে যান এবং ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে থাকেন।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, শাজাহান শ্বশুরবাড়িতে থাকার সময় হারুন ও শিবলু সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। তাদের যাতায়াতে নিষেধ করলে শাজাহানকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর শাজাহান বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন ১২ নভেম্বর শ্বশুরবাড়ির উঠানের মাটির নিচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে হত্যা করে লাশ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা আরফান আলী বাদী হয়ে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আটজনকে আসামি করে ২০১১ সালের ৪ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হলো।

তথ্যসূত্র: আদালতের রায়, মামলার অভিযোগপত্র ও অতিরিক্ত পিপি এনামুল করিম শাহিনের বক্তব্য।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad