বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকের মালিকানা কাঠামোয় স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, শেয়ারধারী কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতার তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিনিয়োগ কমানো, প্রতিনিধি পরিচালকদের ভূমিকা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি তার নিট সম্পদের (নেট ওয়ার্থ) চেয়ে বেশি মূল্যমানের শেয়ার একক বা একাধিক ব্যাংকে ধারণ করতে পারবে না। কোনো প্রতিষ্ঠান এ সীমা অতিক্রম করলে ছয় মাসের মধ্যে তা নির্ধারিত সীমায় নামিয়ে আনতে হবে।
এ ছাড়া প্রতিনিধি পরিচালক মনোনয়নের আগে তার নিজ নামে তালিকাভুক্ত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ২ শতাংশ অথবা অন্যান্য কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ২০ শতাংশ দায়মুক্ত শেয়ার থাকতে হবে। প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পুরো সময় এ শেয়ার মালিকানা বজায় রাখতে হবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগ, পুনর্নিয়োগ বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। অনুমোদনের সময় মনোনীত ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠানে মালিকানা থাকার প্রমাণপত্রও জমা দিতে হবে।
এর আগে ব্যাংকের পর্ষদে শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিয়োগ পাওয়া প্রতিনিধি পরিচালককে পুনর্নিয়োগ বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি সার্কুলারের বিষয়টি ব্যাংকের পর্ষদ সভায় উপস্থাপন এবং কর্মকর্তা ও শেয়ারধারীদের অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন নতুন শর্তবাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগে বিভিন্ন ব্যবসায়ী গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকে শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে সংশ্লিষ্ট গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ দেওয়ার নজির ছিল। এতে প্রতিনিধি পরিচালকের স্বাধীনতা, প্রকৃত মালিকানার প্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব পরিচালকের মাধ্যমে ব্যাংকের পর্ষদে সংশ্লিষ্ট গ্রুপের স্বার্থ প্রাধান্য পাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
তাদের মতে, শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিনিধি পরিচালকের প্রকৃত মালিকানা ও স্বার্থের সম্পর্ক নিশ্চিত করা এবং শুধু কোনো গ্রুপের কর্মকর্তা বা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যাংকের পর্ষদে বসার সুযোগ বন্ধ করতেই নতুন শর্ত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিনিধি পরিচালকের নিজস্ব শেয়ার মালিকানা বাধ্যতামূলক করায় ব্যাংকের পর্ষদে কার স্বার্থে কে প্রতিনিধিত্ব করছেন, তা যাচাই করা সহজ হবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স