নাজু আক্তার নেত্রকোনা সদর উপজেলার কাটলী এলাকার ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে। নুরুল আমিন একই উপজেলার নগুয়া কুশলগাঁও এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে নাজু আক্তার নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তাঁর ১৪ বছর বয়সী ছোট ভাই ২২ সেপ্টেম্বর নেত্রকোনা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
দেখা হওয়ার পর বিরোধপুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তের একপর্যায়ে নাজু আক্তারের সাবেক স্বামী নুরুল আমিনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কীটনাশক কিনতে তিনি নেত্রকোনা শহরে এসেছিলেন। পরে নাজু আক্তার তাঁকে ফোন করলে বড়বাজার এলাকায় তাঁদের দেখা হয়। একপর্যায়ে নাজু আক্তার তাঁর ফোন নিয়ে নেন এবং দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের সরিয়ে দেন।
পুলিশের দাবি, নুরুল আমিন জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানান, ভরণপোষণের ছয় হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে তিনি নাজু আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে তেরিবাজার মোড় থেকে রিকশায় রাজুরবাজার এলাকায় যান। সেখান থেকে ভাড়ায় মোটরসাইকেলে করে তাঁরা মৌগাতী ইউনিয়নের খাটপোড়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় যান।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে টাকা নিয়ে তাঁদের মধ্যে আবারও তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে নুরুল আমিন নাজু আক্তারের বুকে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান বলে পুলিশের কাছে তিনি দাবি করেছেন।
শ্মশানঘাটে হত্যার অভিযোগপুলিশের ভাষ্য, পরে নাজু আক্তারকে পাশের শ্মশানঘাটে নিয়ে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর নুরুল আমিন মরদেহ কাঁধে করে নিজের বাড়ির পাশের ঢুকিয়ালী নদীর পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে বাড়ি থেকে কোদাল এনে গর্ত করে মরদেহটি মাটিচাপা দেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশ জানায়, নুরুল আমিন ও নাজু আক্তারের প্রায় ১৪ বছর আগে বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। পারিবারিক বিরোধের কারণে তাঁদের মধ্যে একাধিকবার বিচ্ছেদ হলেও পরে তাঁরা আবার একসঙ্গে বসবাস করতেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় নাজু আক্তারের স্বামীকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ২৪, পুলিশ সূত্র ও নেত্রকোনা মডেল থানা

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক