গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে পিএইচএবি জানিয়েছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে বিপুলসংখ্যক মুখোশধারী ব্যক্তি রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালান। এ সময় দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
লুট হওয়া সামগ্রীর মধ্যে সরকারি টিকাদান কার্যক্রমের নথি ও সরঞ্জাম, পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, চিকিৎসা ও ল্যাবরেটরি সরঞ্জাম এবং কম্পিউটারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী রয়েছে বলে সংগঠনটির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় কেন্দ্রটির স্থাপনাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
পিএইচএবির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনার পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনায় একটি দোকানদার সমিতির সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কাপিএইচএবি বলছে, কোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সংরক্ষিত সরকারি ইপিআই টিকা, টিকাদান রেজিস্টার ও গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য-নথি লুট বা নষ্ট হলে এর প্রভাব শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এতে শিশু ও নারীদের টিকাদান, পরিবার পরিকল্পনা এবং অন্যান্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য তথ্যের নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়ে।
সংগঠনটির মতে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান দখল, ভাঙচুর বা লুটপাটের সুযোগ নেই। সরকারি-বেসরকারি যেকোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা জনগণের স্বাস্থ্য অধিকার ও নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।
দ্রুত তদন্ত ও দখলমুক্ত করার দাবিঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে পিএইচএবি।
একই সঙ্গে লুট হওয়া সরকারি টিকা, স্বাস্থ্য-নথি, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দ্রুত দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা চালুর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা, দখল বা অবৈধ হস্তক্ষেপ ঠেকাতে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিরাপত্তাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে পিএইচএবি।
তথ্যসূত্র: কালবেলা অনলাইন, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬; পাবলিক হেলথ অ্যাডভোকেটস অব বাংলাদেশ (পিএইচএবি)-এর বিবৃতি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক