এমপিওভুক্তদের পে-স্কেলে পৃথক প্রজ্ঞাপন লাগবে না

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৯ দুপুর
  • ৩৩৯৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন জাতীয় পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তির জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির প্রয়োজন হবে না। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জারি করা পে-স্কেলের গেজেটই এমপিওভুক্ত জনবলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।

বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের দুই কর্মকর্তার মধ্যে এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করতে আলাদা প্রজ্ঞাপনের প্রয়োজন নেই বলে মত দেওয়া হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের জন্য ঘোষিত গেজেটই এমপিওভুক্ত জনবলের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

বেতন বাড়বে, ভাতা থাকবে আগের মতো

অতীতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য পৃথক গেজেট জারির নজির রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের মতো সব ধরনের ভাতা পান না এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, নতুন পে-স্কেলে তাদের বেতন বাড়বে। তবে ভাতাগুলো আগের মতোই থাকবে। এ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কাজ করবে।

যেভাবে নির্ধারিত হবে নতুন বেতন

নতুন জাতীয় বেতন স্কেলে একজন চাকরিজীবীর মূল বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ৩০ জুনের মূল বেতন, বর্তমান গ্রেড এবং নতুন পে-স্কেলে সংশ্লিষ্ট গ্রেডের নির্ধারিত স্কেল বিবেচনায় নেওয়া হবে।

নতুন বেতন নির্ধারণে মূলত দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। যারা পুরোনো বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে নতুন স্কেলের একই গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন নির্ধারণ করা হবে।

অন্যদিকে, কেউ যদি পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের চেয়ে বেশি মূল বেতন পান, তাহলে পুরোনো স্কেলের শুরু থেকে তার বর্তমান বেতনের ব্যবধান বের করে সেই ব্যবধান নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করা হবে। হিসাবের ফল নতুন স্কেলের কোনো নির্ধারিত ধাপে না মিললে পরবর্তী উচ্চতর ধাপ নির্ধারণ করা হবে।

উদাহরণ হিসেবে, ১৬তম গ্রেডের কোনো কর্মচারী পুরোনো স্কেলে ৯ হাজার ৩০০ টাকা প্রারম্ভিক বেতন পেলে এবং নতুন স্কেলে ওই গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন ২১ হাজার ৯০০ টাকা হলে নতুন মূল বেতন হবে ২১ হাজার ৯০০ টাকা।

আবার কোনো কর্মচারীর পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৩০ জুনের মূল বেতন ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা হলে ব্যবধান দাঁড়ায় ১ হাজার ২৯০ টাকা। নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন ২৫ হাজার টাকা হলে ২৫ হাজারের সঙ্গে ১ হাজার ২৯০ টাকা যোগ করে পাওয়া যায় ২৬ হাজার ২৯০ টাকা। নতুন স্কেলে এ নামে কোনো ধাপ না থাকায় পরবর্তী নির্ধারিত ধাপ ২৬ হাজার ৩০০ টাকা হবে তার নতুন মূল বেতন।

হিসাব করতে লাগবে তিন তথ্য

নতুন পে-স্কেলে নিজের মূল বেতন নির্ধারণ করতে একজন চাকরিজীবীর তিনটি তথ্য প্রয়োজন হবে—৩০ জুনের মূল বেতন, বর্তমান গ্রেড এবং জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এ ওই গ্রেডের নির্ধারিত নতুন স্কেল।

এরপর দেখতে হবে তিনি পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে ছিলেন কি না। থাকলে নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনই হবে নতুন মূল বেতন। আর প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে বেশি বেতন পেলে পুরোনো স্কেলের শুরু থেকে বর্তমান বেতনের ব্যবধান নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করে পরবর্তী নির্ধারিত ধাপ অনুযায়ী নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad