বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সরিফা সালোয়া ডিনাকে চার বছরের জন্য বেরোবির প্রথম উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের মার্চে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে প্রায় আড়াই বছর ধরে পদটি শূন্য রয়েছে। দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হলেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি এখনও পদটিতে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত।
‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৯’-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী, মহামান্য আচার্য প্রয়োজনবোধে নির্ধারিত শর্তে চার বছরের জন্য কোনো অধ্যাপককে উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে থাকেন। একাডেমিক কার্যক্রম তদারকি, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং নীতিনির্ধারণে পদটি অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে পদটি খালি থাকায় বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে উপাচার্যসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের।
এদিকে, বেরোবির সাবেক ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মজিব উদ্দিন আহমদ ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট পদত্যাগ করার পর প্রায় দুই বছর পদটি শূন্য ছিল। গত ২৩ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু হানিফ সরকারকে নতুন ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে নিয়োগের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান না করায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
যোগদানের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আবু হানিফ সরকার বলেন, দুই মাস আগে পরিস্থিতি যেমন ছিল, এখনও তেমনি আছে। আমার কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আপনারা সঠিক তথ্য পাবেন।
সার্বিক প্রশাসনিক সংকট নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, প্রো-ভিসি নিয়োগের বিষয়ে আমার কাছে নতুন কোনো আপডেট নেই, এটি সম্পূর্ণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার। আর ট্রেজারারের ক্ষেত্রে আমরা আবেদন করার পর মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে কিছু জটিলতার কারণে তিনি এখনও দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক