রোববার জেলা বিএনপির মুখপাত্র ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নূরতাজ আলম বাহার স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে দুই নেতার পদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, দায়িত্বশীল পদে থেকে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক, নীতিবিবর্জিত ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এ কারণে আব্দুল হামিদ ও মোয়াজ্জেম হোসেনের সংশ্লিষ্ট পদ স্থগিত করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জেলা বিএনপির মুখপাত্র নূরতাজ আলম বাহার বলেন, দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী অনৈতিক কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত হলে এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুবদল নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিসএকই ঘটনায় বরাইদ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মান্নান মল্লিককে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। গত ২ অক্টোবর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব ফরিদ হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিসে দলীয় শৃঙ্খলা ও গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কেন তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
নোটিস পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির কাছে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা তাঁতি দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ও উপজেলা তাঁতি দলের সভাপতি বাবুল হোসেনের পদও স্থগিত করা হয়েছে।
কী ঘটেছিলগত ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, নাশকতার পরিকল্পনা ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগে বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক রুহুল আমিন রুবেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগার থেকে মুক্ত করার উদ্যোগ হিসেবে সাটুরিয়া উপজেলা তাঁতি দলের সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন সংগঠনের প্যাডে নিজেকে সভাপতি পরিচয় দিয়ে একটি প্রত্যয়নপত্র দেন। ওই প্রত্যয়নপত্রে রুহুল আমিন রুবেলকে বিএনপির ‘সংগ্রামী সদস্য’ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সহযোগিতাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এর পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন এবং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মান্নান যৌথভাবে আরেকটি প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেন।
এসব প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক