সোমবার রাজধানীর শেরাটন ঢাকার গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ইতিহাস, ভিশন, মিশন, ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার এবং দেশের সামাজিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরা হয়। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি প্রেজেন্টেশনও উপস্থাপন করা হয়।
জাতীয় স্বার্থভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতির কথাসমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক নৈতিক দর্শন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও নারীর অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, ন্যায্য বাণিজ্য ও মানবিক সংলাপের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কোনো নির্দিষ্ট শক্তি বা বলয়ের পক্ষপাতী নয়। জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান ও ভারসাম্যের ভিত্তিতে একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণে তারা বিশ্বাসী।
সংখ্যালঘু ও নারীর অধিকার রক্ষার অঙ্গীকারমামুনুল হক বলেন, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নীতি ইসলামী মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সংগঠনটি কোনো জনগোষ্ঠী বা রাষ্ট্রের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে না। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী দৃষ্টিকোণ ও মূল্যবোধকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলের সনদে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নারীর ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় দলটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীন বিচার বিভাগ ও মুক্ত গণমাধ্যম ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং জবাবদিহিমূলক সরকারের অপরিহার্য পূর্বশর্ত।
অনুষ্ঠানে যেসব কূটনীতিক ছিলেনঅনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ, ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জালিল রহিমি জাহানাবাদি, সিঙ্গাপুর দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ ওং এবং ইরাকের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. ওয়িসাম হুসাইন আলী আল-ইথাওয়ি।
এ ছাড়া মালদ্বীপের ডেপুটি হাইকমিশনার আলী শাহ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ফার্স্ট কাউন্সেলর কামিলা পার্টিকা এবং মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা অ্যালিস কেনেডিসহ রাশিয়া, জাপান, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, আর্জেন্টিনা ও ব্রুনাইয়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কূটনৈতিক প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন আন্তর্জাতিক ক্বারী মাওলানা আহমদ বিন ইউসুফ।
এ ছাড়া সংগঠনের অভিভাবক পরিষদের সদস্য মাওলানা আকরাম আলী, সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করীম জালালীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, জাতীয় সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ এবং প্রকৌশলী মাহবুবা হাকীমসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক