তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলেও গণভোটের বিধান রাখার প্রস্তাব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৮ রাত
  • ৩৭৬৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হলে ভবিষ্যতে কোনো সরকার বা সংসদ যাতে সহজে তা বাতিল করতে না পারে, সে জন্য বিশেষ বিধান রাখার কথা জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করতে হলে জনগণের মতামত নেওয়ার জন্য গণভোটের বিধান রাখা হবে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে কমিটি।

সংবিধান সংশোধনে গণভোট

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে যেসব অনুচ্ছেদে পরিবর্তন বা সংযোজন করা হবে, সেগুলো কার্যকর করার আগে গণভোটের ব্যবস্থা করতে হবে। এটি সাংবিধানিক গণভোট হবে। তাঁর ভাষ্য, আগের গণভোট ছিল আইনি গণভোট।

সংবিধানের প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও মৌলিক বিষয়গুলোতে পরিবর্তন এলে গণভোটের বিষয়টি আসবে বলেও জানান তিনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধান সংবিধানে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হবে বলে জানান মন্ত্রী।

গঠনের পদ্ধতি এখনও চূড়ান্ত নয়

তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে গঠিত হবে, কারা এতে থাকবেন এবং কোন পদ্ধতিতে সরকার গঠন করা হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিষয়টি সংসদে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে আইনজীবী, বিচারক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইন বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতি নিয়ে একাধিক বিকল্পও বিবেচনা করা হবে।

রাষ্ট্রপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি বলেও জানান তিনি। বিরোধী দল ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পাওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা একটি পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে বলে জানান কমিটির সভাপতি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্বীকৃতির দাবি

ষষ্ঠ বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। এতে শহীদের মা-বাবা, ভাই এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিসহ ৬৩ জন অংশ নেন।

বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং শহীদ ও আহতদের সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জুলাই ঘোষণাপত্রের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংবিধানের উপযুক্ত জায়গায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

শহীদ ও আহতদের পক্ষ থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবিও জানানো হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সরকার আন্তরিক। তদন্ত, প্রসিকিউশন ও চার্জ গঠনের বিষয়ে সরকারের কাজ দ্রুততার সঙ্গে করা হবে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

নোট অব ডিসেন্টসহ যেভাবে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ।

তবে শুধু জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের মধ্যে সংবিধান সংশোধনের অন্যান্য বিষয় সীমাবদ্ধ রাখা হবে না বলে জানান তিনি। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত ও অন্যান্য প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে একটি বিল সংসদে উপস্থাপনের জন্য প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

বিরোধী দলের লং মার্চ কর্মসূচিকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধনের বিষয় সংসদেই হবে।

তিনি জানান, ছয়টি বৈঠকের পরও সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি, বিচারক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, আইন বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদসহ আরও অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা বাকি রয়েছে। এসব মতামত পাওয়ার পর কমিটিতে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তথ্যসূত্র: সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্র।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad