অধিদপ্তরের হিসাবে, নির্ধারিত সময়ে ৯১৮ জন যোগ না দেওয়ায় এসব পদে নতুন করে শিক্ষকসংকট তৈরি হয়েছে। তবে কেন তারা যোগ দেননি, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্য চাকরির সুযোগের ধারণাসহকারী শিক্ষক পদটি ১৩তম গ্রেডের। নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী ভাতাসহ এ পদে শুরুতে প্রায় ৩৬ হাজার টাকা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সরকারি চাকরির নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কারণে পদটি চাকরিপ্রার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় হলেও নিয়োগপত্র পেয়েও ৯১৮ জনের যোগ না দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, যোগ না দেওয়া প্রার্থীদের কেউ অন্য চাকরিতে যুক্ত হয়েছেন অথবা একই সময়ে পাওয়া অন্য কোনো সুযোগ বেছে নিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানাতে পারেনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম বলেন, নয় শতাধিক প্রার্থী যোগ না দেওয়ায় অধিদপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে চাকরিতে যোগ দেওয়া বা না দেওয়া ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। ধারণা করা যায়, তাদের অনেকে এর চেয়ে ভালো চাকরি পেয়েছেন।
চট্টগ্রামে যোগ দেননি ৬৪ জনচট্টগ্রামে নিয়োগপত্র পাওয়া ৫২৫ জনের মধ্যে ৬৪ জন নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেননি। একই চিত্র দেশের ৬১ জেলায় দেখা গেছে। যারা যোগ দিয়েছেন, তাদের ওরিয়েন্টেশন কার্যক্রম চলছে। আগামী ১১ অক্টোবর নতুন শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে পদায়নের কথা রয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে যোগ না দিলে সাধারণত পরে যোগদানের সুযোগ থাকে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নিয়োগ নিয়ে শুরু থেকেই জটিলতাএই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই নানা জটিলতা ও বিতর্ক রয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নির্বাচিত করা হয়। পরে নিয়োগপত্র দেওয়ার সময় প্রথম তালিকায় বিপুলসংখ্যক সুপারিশপ্রাপ্তের নাম না থাকায় আন্দোলন শুরু করেন প্রার্থীরা।
পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাই শেষে অধিকাংশ প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও এখনো ৮০ জনের বেশি প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। তাদের কারও বিরুদ্ধে মামলা বা অন্য কোনো জটিলতা রয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
শিক্ষকসংকটের মধ্যে নতুন উদ্বেগদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষকসংকট রয়েছে। ৩৬ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এতে সহকারী শিক্ষক পদেও নতুন করে শূন্যতা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে নিয়োগপত্র পেয়েও ৯১৮ জনের কাজে যোগ না দেওয়াকে প্রাথমিক শিক্ষার জনবল সংকটের ক্ষেত্রে নতুন উদ্বেগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের একজন রংপুরের পীরগঞ্জের পশালবাড়ীর মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, তারা নিয়োগপত্রবঞ্চিত ৩১ জনের তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এ সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।
মামুন বলেন, তারা হাইকোর্টে রিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ হয়রানি করেছে এবং তাদের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তথ্যসূত্র: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নিয়োগপত্রবঞ্চিত প্রার্থীদের বক্তব্য।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক