সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আরও অন্তত দুই দিন বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে। শুক্রবারও দেশের কয়েকটি বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তবে পরবর্তী পাঁচ দিনের বর্ধিত পূর্বাভাসে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ৩২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিআবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের আমবাগান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৩২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া কুতুবদিয়ায় ৩০০, চট্টগ্রাম শহরে ২৪৯, বান্দরবানে ২৩৫, গোপালগঞ্জে ১৪২, রাঙামাটিতে ১৩০, কক্সবাজারে ১২৫ এবং তেঁতুলিয়ায় ১২২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে।
নদীর পানি বাড়ার আশঙ্কাবাংলাদেশের উজানে ভারতের ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
প্রতিবেদন প্রকাশের সময় কেন্দ্রটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের ছয়টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আরও কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি ছিল।
সমুদ্রবন্দরে সতর্ক সংকেত বহালভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল থাকার কথা জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে উপকূলীয় অঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা এবং নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন বিভাগে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে পরবর্তী পাঁচ দিনের মধ্যে বৃষ্টির প্রবণতা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক