রামেবি উপাচার্যকে দপ্তরে ফেরালেন ভূমিমন্ত্রী, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৮ বিকাল
  • ১০০৮৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হককে তাঁর কার্যালয়ে ফিরিয়ে নিয়ে দপ্তরের চেয়ারে বসিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। উপাচার্যকে হেনস্তা করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে সই নেওয়ার অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে গিয়ে উপাচার্যকে তাঁর দপ্তরে নিয়ে যান ভূমিমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, উপাচার্যের সঙ্গে যারা দুর্ভাগ্যজনক আচরণ করেছে, তারা দুষ্কৃতকারী। তাদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই; তারা সমাজের শত্রু।

মন্ত্রী আরও বলেন, রাজশাহীতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপাচার্যকে সাহস ধরে রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজশাহীকে এগিয়ে নিতে সবাইকে কাজ করতে হবে।

উপাচার্যকে জোর করে সই নেওয়ার অভিযোগ

এর আগে গত মঙ্গলবার রামেবির অস্থায়ী কার্যালয়ে উপাচার্যকে হেনস্তা করে একটি কাগজে জোরপূর্বক সই নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই দিন বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক জাওয়াদুল হক জানান, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল তাঁর কক্ষে ঢুকে একটি কাগজে সই করতে বলে। কাগজটি তাঁকে পড়তে দেওয়া হয়নি। সই না করলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি তাতে সই করেন। তাঁর ধারণা, কাগজটি ছিল পদত্যাগপত্র।

উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী ও সেকশন অফিসার (অর্থ) নাজমুল হোসাইন বাধা দিতে গেলে তাঁকেও লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে উপাচার্য ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া দপ্তরের কম্পিউটারের সিপিইউ, সিসিটিভি ক্যামেরার সরঞ্জামসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি দপ্তরে তালা দেওয়ার অভিযোগ করেন উপাচার্য।

মামলায় আসামি ৫০ থেকে ৬০ জন

ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসাইন বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা, সরঞ্জাম চুরি ও ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের কথা জানিয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপাচার্যকে তাঁর উপশহরের বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। পরে বেলা সোয়া ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসেনের উপস্থিতিতে উপাচার্যের দপ্তরের তালা খোলা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের কথা জানালেন মন্ত্রী

উপাচার্যকে দপ্তরে ফিরিয়ে নেওয়ার পর ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি বড় প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এর মধ্যে একটি বড় প্রকল্প মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে বলে জানান তিনি। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ভালো আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সীমিত সময়ে একজন চিকিৎসকের পক্ষে অনেক রোগী দেখা কঠিন। তাই চিকিৎসকদের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও হাসপাতাল এলাকায় বেশি করে গাছ লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ অপকর্মের চেষ্টা করলে দল-মত বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেই কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।

দপ্তরে বসার পর উপাচার্য জাওয়াদুল হক জানান, ঘটনার পর তিনি ভূমিমন্ত্রী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তাঁরা সবাই তাঁকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

এ সময় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad