শাহরাস্তিতে কৃষিজমির উর্বর মাটি লুট, কমছে ফসল উৎপাদন

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৬ বিকাল
  • ৪৯৫১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অবৈধভাবে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপসয়েল) কেটে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। শীত মৌসুমে এক্সকাভেটর বা ভেকু এবং বর্ষায় ড্রেজার ব্যবহার করে রাতের আঁধারে চলছে মাটি কাটার কাজ। প্রশাসনের অভিযান, জরিমানা ও যন্ত্রপাতি জব্দের পরও বন্ধ হচ্ছে না এ তৎপরতা। এতে একদিকে কমছে আবাদি জমি ও ফসলের উৎপাদন, অন্যদিকে সেচব্যবস্থায়ও তৈরি হচ্ছে জটিলতা।

শাহরাস্তি উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রায় সব এলাকাতেই ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ডাকাতিয়া নদীর দুই পাড়ের কৃষিজমিতে এ তৎপরতা বেশি। বর্ষায় নদীর তলদেশ ও প্লাবিত জমি থেকেও বিশেষ পদ্ধতিতে নৌকায় করে মাটি তুলে নেওয়া হচ্ছে।

অভিযানেও থামছে না মাটি কাটা

সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে কৃষিজমির টপসয়েল কাটার দায়ে দুই বালু ব্যবসায়ীকে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় কয়েকশ মিটার পাইপলাইন ধ্বংস ও একাধিক ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে কৃষিজমি রক্ষায় ১৫টি বিশেষ অভিযান চালিয়ে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে ড্রেজার মেশিন ও পাইপলাইন।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে গোপনে মাটি কাটা অব্যাহত রয়েছে।

উর্বরতা হারাচ্ছে জমি, বাড়ছে সেচসংকট

শাহরাস্তি একটি কৃষিপ্রধান উপজেলা। খিলা খাল ও রাগৈ বিল খাল ভাসমান সেচ প্রকল্পসহ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) বিভিন্ন সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে এ অঞ্চলে কৃষিকাজ পরিচালিত হয়। এসব জমি থেকে উৎপাদিত ফসল স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বৃহত্তর খাদ্য সরবরাহেও ভূমিকা রাখে।

কৃষকদের অভিযোগ, জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে নেওয়ায় ফসলের উৎপাদন কমছে এবং মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে ইরি-বোরো ধানের সেচ কার্যক্রমেও দেখা দিচ্ছে নানা সমস্যা।

চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সরওয়ার বলেন, টপসয়েল কেটে নেওয়ার কারণে তিন ফসলি জমি দুই ফসলি, দুই ফসলি জমি এক ফসলি জমিতে পরিণত হচ্ছে। আবার অনেক এক ফসলি জমি পুরোপুরি অনাবাদি হয়ে পড়ছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার দাস বলেন, পাশাপাশি থাকা দুটি জমির একটির টপসয়েল কেটে নেওয়া হলে পাশের জমির উৎপাদন ও সেচব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে পুরো উপজেলায় আবাদি জমি কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

ইটভাটায় যাচ্ছে কৃষিজমির মাটি

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চাঁদপুর জেলার অন্যান্য এলাকার তুলনায় শাহরাস্তিতে ইটভাটার সংখ্যা বেশি। এসব ভাটায় মাটি সরবরাহের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে আশপাশের কৃষিজমি। অধিক মুনাফার আশায় কিছু জমির মালিক তিন থেকে চার ফুট গভীর পর্যন্ত মাটি বিক্রি করছেন। ইটভাটার পাশাপাশি বাড়িঘর নির্মাণ ও পুকুর ভরাটের কাজেও এসব মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাজ্জাদুর রহমান জানান, শাহরাস্তিতে বর্তমানে আবাদি জমির পরিমাণ ১১ হাজার ৮৫ হেক্টর। নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে কৃষিজমি সংরক্ষণের বিকল্প নেই। এ বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করতে কৃষি বিভাগ নিয়মিত উদ্যোগ নিচ্ছে।

অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা

শাহরাস্তি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান বলেন, কৃষিজমির টপসয়েল রক্ষায় গত এক মাসে ১৫টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি ড্রেজার মেশিন ও পাইপলাইন ধ্বংস করা হয়েছে। অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন বলেন, কৃষিজমির ক্ষতি করে মাটি কাটার খবর পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সভা-সেমিনারের মাধ্যমে মাটি কাটার ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে জনসাধারণকে সচেতন ও নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad