সিরাজগঞ্জে "বিশ্ব ডাক দিবস" পালন উপলক্ষ্যে র‍্যালি প্রদর্শন

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

আজিজুর রহমান মুন্না, সিরাজগঞ্জঃ " সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক সীমাহীন সম্ভাবনা" এই প্রতিপাদ্য নিয়ে সারাদেশে ন্যায় সিরাজগঞ্জ প্রধান ডাকঘরের আয়োজনে, "বিশ্ব ডাক দিবস" পালন উপলক্ষ্যে- র‍্যালি প্রদর্শন করা হয়।

শুক্রবার (৯অক্টোবর-২০২৬ খ্রি.) সকালে সিরাজগঞ্জ প্রধান ডাকঘরের সামনে র‍্যালি প্রদর্শন করা হয়এতে নেতৃত্ব দেন এবং সভাপতিত্ব করেন, সিরাজগঞ্জ প্রধান ডাকঘর-৬৭০০ এর সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল কাম পোস্ট মাস্টার (১ম শ্রেণী) মোঃ খোরশেদ আলম। এসময়ে সিরাজগঞ্জ প্রধান ডাকঘর সিরাজগঞ্জ,-৬৭০০, সিরাজগঞ্জ শহর পোস্ট অফিস পরিদর্শক মোঃ শাহ কামাল, ডেপুটি পোস্টমাস্টার কর্মা কর্মা মাহাতো ডেপুটি পোস্টমাস্টার সঞ্চয় সহ

অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল পর্যায়ের কর্মচারী বৃন্দ।

উল্লেখ্য, ৯ অক্টোবর, বিশ্ব ডাক দিবস। ডাকসেবার ঐতিহাসিক অবদান, বর্তমান ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরতে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

১৮৭৪ সালের ৯ অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের বার্নে প্রতিষ্ঠিত হয় জেনারেল পোস্টাল ইউনিয়ন, যা পরে ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন নামে পরিচিতি লাভ করে। আন্তর্জাতিক ডাকব্যবস্থার সমন্বয় ও উন্নয়নে সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৬৯ সালে জাপানের টোকিওতে সংস্থাটির কংগ্রেসে ৯ অক্টোবরকে বিশ্ব ডাক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর দিনটি পালিত হয়ে আসছে।বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের এবারের প্রতিপাদ্য: সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা।বাংলাদেশ ডাক বিভাগ সাধারণত মূল ডাকসেবা ও এজেন্সি সেবা—এই দুই ধরনের সেবা দিয়ে থাকে। মূল ডাকসেবার মধ্যে রয়েছে সাধারণ ও রেজিস্টার্ড চিঠি, দ্রুত ডাক, দেশি-বিদেশি পার্সেল, টাকা পাঠানো এবং ডাকটিকিট বিক্রি। রেজিস্টার্ড চিঠির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ চিঠি ও নথি পাঠানো যায়। গ্যারান্টিযুক্ত দ্রুত ডাক এবং দ্রুত ডাকসেবার মাধ্যমে চিঠি ও ছোট প্যাকেট দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় দ্রুত ইএমএস (EMS - Express Mail Service) ডাকসেবায় নির্দিষ্ট ওজনের পার্সেল (২০ গ্রাম থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত) ও দলিল পাঠানো এবং সেগুলোর অবস্থান অনুসরণের সুযোগ রয়েছে।

ডাক বিভাগের মাধ্যমে সাধারণ ও ইলেকট্রনিক মানি অর্ডারে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে টাকা পাঠানো যায়। পোস্টাল ক্যাশ কার্ডের মাধ্যমে টাকা লেনদেন ও সংরক্ষণের সুবিধাও রয়েছে। এছাড়া মূল্যে আদায়যোগ্য পার্সেল ও রেজিস্টার্ড চিঠি, জেলা শহরগুলোতে দ্রুত চিঠি ও পার্সেল বিলি, স্মারক ডাকটিকিট বিক্রি এবং অনলাইন ব্যবসার পণ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহে সহায়তার জন্য পণ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মতো সেবাও রয়েছে।

মূল ডাকসেবার পাশাপাশি ডাক বিভাগ বিভিন্ন সরকারি আর্থিক ও দাপ্তরিক সেবাও দিয়ে থাকে। এসবের মধ্যে রয়েছে ডাক জীবনবিমা, ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র কেনাবেচা, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাইজ বন্ড কেনা ও ভাঙানো, বিড়ির ব্যান্ডারোল মুদ্রণ ও বিক্রি এবং বিভিন্ন সরকারি ফি ও স্ট্যাম্পের জন্য ডাকবহির্ভূত টিকিট মুদ্রণ ও বিতরণ।

প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারে ডাকসেবার সামনে তৈরি হয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ। চিঠির ব্যবহার কমে যাওয়ায় মানুষ এখন দ্রুত যোগাযোগের জন্য ই-মেইল, মুঠোফোন ও বিভিন্ন বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম ব্যবহার করছে। এ পরিস্থিতিতে ডাকসেবাকে আরও কার্যকর করতে প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত গ্রাহকসেবা এবং দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য পার্সেল সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। বাংলাদেশেও ডাকব্যবস্থার রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহ্য। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল ডাকঘর। চিঠিপত্র আদান-প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন আর্থিক ও জনসেবামূলক কাজেও ডাকব্যবস্থা ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে কুরিয়ার সেবা, অনলাইন কেনাকাটা ও ডিজিটাল যোগাযোগের প্রসারে ডাকসেবার ধরন বদলেছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সামনে সেবার মান বাড়ানো, প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকের আস্থা অর্জনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দেশের ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিতে আরও অবদান রাখতে পারে ডাকব্যবস্থা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad