কীটনাশকের অতিব্যবহারে ঝুঁকিতে মাটির উর্বরতা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৬ দুপুর
  • ৪৯৫৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
বারবার প্রয়োগেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ফল, বাড়ছে উৎপাদন খরচ; নিরাপদ কৃষিচর্চার পরামর্শ কৃষি কর্মকর্তার

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ফসলের রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে রাসায়নিক কীটনাশকের অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কৃষকদের অভিযোগ, বারবার কীটনাশক প্রয়োগ করেও অনেক ক্ষেত্রে পোকামাকড় দমন করা যাচ্ছে না। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। অন্যদিকে, অপরিকল্পিত কীটনাশক ব্যবহারে মাটির উপকারী অণুজীব, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফসল রক্ষায় তাঁদের অনেকে একাধিকবার কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। এতে বাড়তি অর্থ ব্যয় হলেও সব সময় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদে মাটির গুণাগুণ ও কৃষিজমির উৎপাদনক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে তাঁদের।

বাড়ছে চাষের খরচ, মিলছে না প্রত্যাশিত ফল

উপজেলার পাঙ্গাসী এলাকার কৃষক জাকারিয়া শেখ বলেন, ধানের জমিতে পোকামাকড় দমনে একাধিকবার কীটনাশক প্রয়োগ করতে হচ্ছে। এতে চাষের খরচ বাড়ছে, অথচ প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

ধামাইনগর এলাকার কৃষক জিন্নাহ ফকির বলেন, ফসল ভালো রাখতে সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে। তবে জমির মাটির আগের গুণাগুণ বজায় আছে কি না, তা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ মেনে কীটনাশক ব্যবহার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

ক্ষতির মুখে উপকারী অণুজীব ও জীববৈচিত্র্য

কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক কীটনাশক প্রয়োগ করলে মাটির উপকারী অণুজীব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ বৃষ্টির পানি বা সেচের মাধ্যমে জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়লে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

এ ধরনের ব্যবহার পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায়ও সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই ফসলের রোগবালাই শনাক্ত না করে কিংবা নির্ধারিত মাত্রা অনুসরণ না করে কীটনাশক প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার পরামর্শ

রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, মাটির উর্বরতা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাসায়নিক কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমাতে জৈব সারের ব্যবহার, ফসল পর্যায়ক্রমে চাষ এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা জরুরি।

কৃষকদের সচেতনতা বাড়ানো এবং নিরাপদ কৃষিচর্চা নিশ্চিত করা গেলে অপ্রয়োজনীয় কীটনাশক প্রয়োগ কমানো সম্ভব। এতে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মাটির স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সহায়তা মিলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তথ্যসূত্র: স্থানীয় কৃষকদের বক্তব্য এবং রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলামের বক্তব্য।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad