সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, বাড়ছে পাচার ও অবৈধ মজুত

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২০ দুপুর
  • ৪৭৯৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
মহেশখালীতে ৯ ডিলারের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, শ্রীবরদীতে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ; মানিকগঞ্জে ১১ বস্তা সার আটক, শিবগঞ্জে ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড

সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় সার পাচার ও অবৈধ মজুতের ঘটনা ঘটছে। কক্সবাজারের মহেশখালী ও শেরপুরের শ্রীবরদীতে নতুন ডিলার নিয়োগের তালিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে পার্শ্ববর্তী উপজেলায় পাচারের সময় ১১ বস্তা সার আটক করেছেন স্থানীয়রা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে অবৈধভাবে রাসায়নিক সার মজুতের দায়ে এক ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মহেশখালীতে ৯ ডিলার নিয়ে বিতর্ক

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় সরকারি সারের নতুন ডিলার নিয়োগ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ৪৮টি আবেদনের বিপরীতে চূড়ান্তভাবে মনোনীত ৯ জনই স্থানীয় সংসদ সদস্য আলমগীর মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের অনুসারী বলে অভিযোগ উঠেছে।

তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মী ও নিয়োগবঞ্চিত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, স্বচ্ছতা উপেক্ষা করে দলীয় প্রভাব, স্বজনপ্রীতি এবং অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, মনোনীত কয়েকজনের দোকান নেই; এমনকি এলাকার বাইরে থাকা এক প্রবাসীর স্ত্রীও ডিলারশিপ পেয়েছেন।

অভিযোগকারীরা বলেন, দীর্ঘদিন বিরোধী দলে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত থাকা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ কৃষকের ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সিদ্ধান্ত এবং জেলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রস্তুত তালিকায় ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন ডিলারের নাম রয়েছে। তবে নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের স্বাধীন তদন্তের ফল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

শ্রীবরদীতে স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগের সুপারিশ করা তালিকা নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তালিকায় সংসদ সদস্যের ভাই ও ফুপাতো ভাই, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের স্ত্রীসহ দলীয় নেতাদের নাম রয়েছে। এ ছাড়া জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনে নিহত সবুজ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামির নামও তালিকায় থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।

উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ডিলার নিয়োগের জন্য ৮৯ জন আবেদন করেন। এর মধ্যে ১১টি স্থানের ডিলার নিয়োগের জন্য ৩২ জনের একটি তালিকা সুপারিশসহ জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটিতে পাঠানো হয়। পরে মন্ত্রণালয় তালিকাটি অনুমোদন করে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান আকন্দ কমিটির সদস্যসচিব এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সিংগাবরুণা ইউনিয়নের আবেদনকারী ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান বাবুল ডিলার নিয়োগে সরাসরি অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

মানিকগঞ্জে পাচারের সময় ১১ বস্তা সার আটক

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় অবৈধভাবে পার্শ্ববর্তী নাগরপুর উপজেলায় সার পাচারের সময় ১১ বস্তা সার আটক করেছেন স্থানীয়রা। শুক্রবার উপজেলার চকমিরপুর ইউনিয়নের সমেতপুর প্রধান সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

তবে আটক সার কোন ধরনের, কারা তা পরিবহন করছিলেন এবং এ ঘটনায় প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

শিবগঞ্জে ব্যবসায়ীর এক মাসের কারাদণ্ড

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে অবৈধভাবে রাসায়নিক সার মজুত রাখার দায়ে পারভেজ প্রিন্স (২২) নামের এক ব্যবসায়ীকে এক মাসের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের কয়লার দিয়াড় বাজারে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ২০ বস্তা ডিএপি ও সাত বস্তা টিএসপি সার জব্দ করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত পারভেজ প্রিন্স ওই গ্রামের মেহেরুল ইসলামের ছেলে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সালমা রুমা অভিযানে নেতৃত্ব দেন। তিনি জানান, অবৈধভাবে রাসায়নিক সার মজুতের খবর পেয়ে বাজারে অভিযান চালানো হয়। পরে অবৈধ মজুতের দায়ে ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

তদন্ত ও নজরদারির দাবি

সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, আবেদনকারীদের যোগ্যতা যাচাই এবং বিক্রয়কেন্দ্র ও গুদামের বাস্তব অবস্থা পরিদর্শনের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে সার পাচার ও অবৈধ মজুত বন্ধে নিয়মিত নজরদারি এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

তবে মহেশখালী ও শ্রীবরদীতে নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি; তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার আগে সেগুলোকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad