নওকৈড়ের খাসজমি নিয়ে বিরোধ গ্রামকেন্দ্রিক, রাজনৈতিক নয়: জামায়াত

  • মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোড সময় : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল
  • ৪২৩০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ ইউনিয়নের নওকৈড় গ্রামে সরকারি খাসজমি চাষাবাদকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত সংবাদকে ‘মিথ্যা’ দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। সংগঠনটির উপজেলা আমীর অধ্যাপক শাহজাহান আলী বলেছেন, সংশ্লিষ্ট জমিতে আগে কোনো খেলার মাঠ ছিল না। জমি নিয়ে বিরোধটি গ্রামকেন্দ্রিক; এর সঙ্গে জামায়াতের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই।

সম্প্রতি নওকৈড় পূর্বপাড়া গ্রামে প্রায় চার বিঘা সরকারি জমি, যা খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলে অভিযোগ উঠেছে, ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে দখলের অভিযোগ ওঠে সলপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি হেকমত আলী সরকারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে প্রতিবাদ জানায় উপজেলা জামায়াত।

প্রতিবাদে অধ্যাপক শাহজাহান আলী দাবি করেন, সলপ ইউনিয়নের নওকৈড় মৌজায় খাস খতিয়ানভুক্ত প্রায় ৮২ বিঘা জমি রয়েছে। স্থানীয় মোনায়েম খান, সানোয়ার সরকার, ওমর সরকার, আল-আমিন, নুর বক্স, আনছব আলী গং এবং হেকমত আলীসহ কয়েকজনের পূর্বপুরুষের নামে এসব জমি রেকর্ডভুক্ত ছিল বলে তাঁদের দাবি। পরবর্তী সময়ে জমিগুলো খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা সেগুলোকে পূর্বপুরুষের জমি হিসেবে দাবি করে চাষাবাদ করে আসছেন।

আশ্রয়ণ প্রকল্প নিয়ে বিরোধের দাবি

জামায়াতের উপজেলা আমীরের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সলপ ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শওকত ওসমান রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ওই জমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

অধ্যাপক শাহজাহান আলী অভিযোগ করেন, স্থানীয় নারী-পুরুষের প্রতিবাদের মুখে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশের মাধ্যমে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং স্থানীয়দের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে কারাগারেও পাঠানো হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়ায় আগে যারা জমিতে চাষাবাদ করতেন, তাঁরা পুনরায় চাষাবাদ শুরু করেন। এ ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করে একটি মহল পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার

অধ্যাপক শাহজাহান আলী বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিতে গ্রামের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছেন। সেখানে আগে কোনো খেলার মাঠ ছিল না বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, জমি নিয়ে বিরোধকে জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক নয়; বিষয়টি গ্রামের অভ্যন্তরীণ বিরোধ হিসেবেই দেখা উচিত।

প্রতিবাদ জানানোর সময় উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম প্রধান, সলপ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আলাউদ্দিনসহ সংগঠনটির অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad