রাজশাহীতে আখচাষিদের প্রণোদনা তালিকায় বিএনপির এমপি চাঁদের নাম, বিতর্ক তুঙ্গে

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৩ দুপুর
  • ১৮৩১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
রাজশাহীতে আখচাষিদের জন্য বরাদ্দ সরকারি প্রণোদনা গ্রহণকারীদের তালিকায় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদের নাম থাকায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তালিকার প্রথম ১৫ জনের মধ্যে তাঁর নাম থাকাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তিনি নিবন্ধিত আখচাষি হিসেবে প্রণোদনা নেওয়ার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আখ চাষ ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত।

গত মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আখচাষিদের মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক হিসাবে সরকারি সহায়তার অর্থ পাঠানোর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ সময় চেক গ্রহণকারীদের তালিকার প্রথম ১৫ জনের মধ্যে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদের নাম থাকায় বিষয়টি আলোচনায় আসে।

১২ কোটি টাকা প্রণোদনা বরাদ্দ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজশাহী অঞ্চলের ১৫টি সুগার মিল জোনের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য মোট ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এই তালিকায় একজন সংসদ সদস্যের নাম থাকায় তাঁর আর্থিক সামর্থ্য, প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্যতা এবং সরকারি সহায়তা গ্রহণের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তবে চাঁদ নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে প্রণোদনা পেয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি ও যোগ্যতার শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন।

‘আমি একজন কৃষক’, দাবি এমপি চাঁদের

প্রণোদনা গ্রহণের বিষয়ে আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, সংসদ সদস্য হলেও তিনি একজন নিবন্ধিত আখচাষি। তাঁর বাবা কৃষক ছিলেন এবং বংশপরম্পরায় তাঁদের পরিবার আখ চাষের সঙ্গে যুক্ত।

চাঁদের ভাষ্য, তিনি নিজেও বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদন করেন এবং রাজশাহী সুগার মিলে শত শত গাড়ি আখ সরবরাহ করেছেন। ভবিষ্যতেও আখ সরবরাহ অব্যাহত রাখবেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, আখ চাষ, আখ সরবরাহ এবং কৃষকদের জন্য সরকারি প্রণোদনা পৃথক বিষয়। সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে প্রকৃত প্রেক্ষাপট তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, আখ সরবরাহের বিষয়ে রাজশাহী সুগার মিল কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে মত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাঁদের কৃষক পরিচয়ের পক্ষে যেমন বক্তব্য এসেছে, তেমনি একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর প্রণোদনা গ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

আনিকুল ইসলাম নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারীর মন্তব্য, চাঁদ কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত হলেও জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিতর্ক এড়াতে তাঁর প্রণোদনা থেকে নাম প্রত্যাহার করা উচিত ছিল।

মনিরুল ইসলাম নামের আরেক ব্যবহারকারীর মতে, চাঁদ কৃষক হলেও তাঁর আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় প্রণোদনা গ্রহণের বিষয়টি প্রশ্নের জন্ম দেয়। তাঁর ভাষ্য, ওই অর্থ কোনো দরিদ্র কৃষক পেলে বেশি উপকৃত হতে পারতেন।

অন্যদিকে ইশতিয়াক হাসান রাসেল ও পলাশ নামের দুই ব্যবহারকারী চাঁদের কৃষক পরিচয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, চাঁদ ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত।

যোগ্যতা যাচাইয়ের দাবি

প্রণোদনার তালিকায় একজন সংসদ সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দুটি বিষয় সামনে এসেছে—তিনি সরকারি সহায়তা পাওয়ার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেছেন কি না এবং যোগ্যতা পূরণ করলেও তাঁর মতো আর্থিকভাবে সচ্ছল জনপ্রতিনিধির এ সহায়তা গ্রহণ কতটা যৌক্তিক।

তবে প্রণোদনা গ্রহণের নৈতিকতা নিয়ে জনমত এবং সরকারি নিয়মে যোগ্যতার বিষয়টি এক নয়। চাঁদ নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেছেন কি না, তা যাচাই ছাড়া তাঁকে অনিয়মের জন্য দায়ী করার সুযোগ নেই।

সরকারি প্রণোদনা বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উপকারভোগীদের যোগ্যতা, সহায়তা পাওয়ার শর্ত এবং তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া প্রকাশের দাবি উঠেছে। এতে প্রকৃত ক্ষুদ্র ও অসচ্ছল আখচাষিরা যথাযথভাবে সহায়তা পাচ্ছেন কি না, তা মূল্যায়ন করা সহজ হবে।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad