চাঁদাবাজির শিকার ধর্ম নয়, ক্ষমতাহীন নাগরিক: হাসনাত আবদুল্লাহ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৪ দুপুর
  • ১৬১৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg হাসনাত আবদুল্লাহ
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বয়ান তৈরির অভিযোগ এনসিপি নেতার

সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু—ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক, ক্ষমতাহীন নাগরিকেরা ক্ষমতাসীন দলের চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর মতে, দেশের চাঁদাবাজি, ভূমিদখল ও নিরাপত্তাহীনতার মতো সমস্যাগুলোর অধিকাংশই সাম্প্রদায়িক নয়; বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন। একই পোস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় উগ্রবাদকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন তিনি।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বয়ান নিয়ে প্রশ্ন

হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর পোস্টে দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় উগ্রবাদের ঘটনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পূজামণ্ডপে নাশকতার ঘটনা ঘটিয়ে সেগুলোর দায় বিভিন্ন পক্ষের ওপর চাপানোর মাধ্যমে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভেদ বাড়ানো হতো।

তিনি আরও দাবি করেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই—এমন প্রচারণা দেশে ও বিদেশে চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় উগ্রবাদের উত্থান নিয়ে আশঙ্কা ছড়িয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হাসনাতের ভাষ্য, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে ধর্মীয় উৎসব পালনের পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া দুর্গাপূজা তুলনামূলক নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপিত হয়েছে।

অপরাধের বিচার ও নাগরিক নিরাপত্তায় গুরুত্ব

দেশের বিদ্যমান অপরাধ পরিস্থিতি তুলে ধরে এনসিপির এই নেতা বলেন, সাধারণ হিন্দু ও মুসলমান—উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই চাঁদাবাজি, ব্যবসায়িক অনিয়ম, ভূমিদখল এবং প্রভাবশালীদের ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার হচ্ছেন।

তাঁর মতে, এসব অপরাধের সঙ্গে রাজনৈতিক, আমলাতান্ত্রিক ও বিভিন্ন বাহিনীর প্রভাবশালীদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। ফলে অপরাধকে কেবল সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে প্রকৃত সমস্যার সমাধান হবে না।

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে বেছে বেছে কিছু ঘটনা সামনে এনে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বয়ান তৈরি করেছে। এভাবে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার প্রশ্নকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন তিনি।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান

হাসনাত আবদুল্লাহর মতে, অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া জোরদার করা এবং আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা কমানো সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। অপরাধের যথাযথ বিচার হলে সমাজে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগও কমে আসবে।

পোস্টের শেষাংশে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রশংসা করেন হাসনাত। তিনি এটিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad