নতুন হামলা হলে উপসাগরীয় ৭ দেশের তেল স্থাপনায় আঘাতের হুমকি ইরানের

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৫ বিকাল
  • ১৮০৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে নতুন করে হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি দেশের তেল স্থাপনা, সমুদ্রতলের যোগাযোগ ক্যাবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংক্রান্ত অবকাঠামোতে আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসিন রেজায়ি বলেছেন, নতুন সংঘাত শুরু হলে দেশটির পাল্টা পদক্ষেপ আগের চেয়ে আরও বিস্তৃত হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মেহদি মোহাম্মদি। তবে সম্ভাব্য অভিযানের সাফল্য নিশ্চিত নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রকাশিত ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

‘পরবর্তী সংঘাত হবে আরও বিস্তৃত’

মেহদি মোহাম্মদি বলেছেন, ইরান পরবর্তী সংঘাতকে অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। তাঁর ভাষ্য, দুই বছরের মধ্যে তৃতীয়বার যুদ্ধ শুরু হলে তা ইরানের অস্তিত্বের সংকট তৈরি করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে তেহরানের কৌশল হবে প্রচলিত সীমারেখা না মেনে সংঘাতের সময়কাল ও ভৌগোলিক পরিসর বাড়িয়ে দেওয়া।

মোহাম্মদির দাবি, শত্রুপক্ষ যতটা ধারণা করছে, যুদ্ধ তার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং আরও বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সম্ভাব্য সংঘাতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং চীন বা রাশিয়ার কাছ থেকে কোনো অনানুষ্ঠানিক সহায়তা পাওয়া যাবে কি না, তা ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

রেজায়ি বলেছেন, ইরানের অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে হামলা চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। তাঁর মতে, ইরানের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযানে সহায়তাকারী অবকাঠামোও পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

তেল, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু

ইরানের হুঁশিয়ারিতে শুধু তেল স্থাপনাই নয়, সমুদ্রতলের যোগাযোগ ক্যাবল, ডেটা সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট স্থাপনাও রয়েছে। তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে পাল্টা অভিযানের পরিধি আরও বাড়ানো হতে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ রেজা নাসরিও আঞ্চলিক অবকাঠামো নিয়ে ভয়াবহ পরিণতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁর সতর্কবার্তা, সংঘাত বিস্তৃত হলে বিদ্যুৎ গ্রিড, লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্র, তেল শোধনাগার ও বন্দরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষ পানি ও বিদ্যুৎ সংকটে পড়তে পারেন এবং আঞ্চলিক অর্থনীতি বিপর্যস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তবে এসব বক্তব্য সম্ভাব্য যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্কতা; বাস্তবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার দাবি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা চারটি বাণিজ্যিক জাহাজে একই সময়ে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। জাহাজগুলো থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর করা হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে আরও তিনটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছে আইআরজিসি।

তবে এসব ঘটনার বিবরণ ও হামলার সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ইরানে নতুন করে হামলার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। প্রতিবেদনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৩ দশমিক ৪ ডলারে পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি।

সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে সম্ভাব্য যৌথ হামলার জন্য দেশটির সামরিক উপদেষ্টারা লক্ষ্যবস্তুর তালিকা তৈরি করেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, তেল অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক মহড়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের মধ্যে ওই অঞ্চলে তিনটি বিমানবাহী রণতরি, কয়েক হাজার মেরিন সেনা, যুদ্ধবিমান ও বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বৈঠকেও সম্ভাব্য যৌথ হামলার সময় ও উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে নতুন হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত নয়।

যুদ্ধবিরতির আলোচনাও চলছে

সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজতে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা চলতি সপ্তাহে আবারও আলোচনা করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আলোচনায় হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নেওয়া, জাতিসংঘের অস্ত্র পরিদর্শকদের ইরানের বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর প্রস্তাব রয়েছে।

এর বিনিময়ে ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ইরান, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনের সংকট নিয়ে সমন্বিত নীতি নির্ধারণে শুক্রবার ইস্তাম্বুলে ইউরোপীয় ও আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি, সামরিক প্রস্তুতি এবং কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি এখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad