রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে মহানগর এক্সপ্রেসের প্রথম যাত্রা শুরু হবে। রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ট্রেনটির যাত্রার উদ্বোধন করবেন। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ট্রেনটি পরদিন সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার আবু বকর সিদ্দিক ট্রেনটি চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
যেসব স্টেশনে যাত্রাবিরতিরেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্র জানায়, মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের একাধিক স্টেশনের যাত্রীরা সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাবেন। স্টেশনগুলো হলো—ঢাকা বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও ফেনী।
এতদিন ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস বিরতিহীন হওয়ায় মধ্যবর্তী এসব স্টেশনের যাত্রীদের সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ ছিল না। মহানগর এক্সপ্রেস চালু হলে ওই অঞ্চলের যাত্রীদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা ও রেলওয়ের আয় বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ট্রেনের সময়সূচিনতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে রাত সাড়ে ৮টায় ছেড়ে মহানগর এক্সপ্রেস পরদিন সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে। ফিরতি পথে ট্রেনটি সকাল ৮টায় কক্সবাজার ছেড়ে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে রোববার।
অনলাইনে যেভাবে টিকিট কাটবেনমহানগর এক্সপ্রেসের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে গত ১৬ অক্টোবর থেকে। যাত্রীরা বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টিকিট কিনতে পারবেন।
টিকিট কাটতে প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। অ্যাকাউন্ট না থাকলে ‘Register’ অপশনে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, জন্মতারিখ ও সচল মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর মোবাইলে পাঠানো নিরাপত্তা কোড দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
নিবন্ধন শেষে অ্যাকাউন্টে লগইন করে ‘Purchase Ticket’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। সেখানে যাত্রার তারিখ, যাত্রা শুরুর স্টেশন, গন্তব্য, ট্রেনের নাম, আসনের শ্রেণি ও টিকিটের সংখ্যা নির্বাচন করতে হবে। এরপর আসন খালি থাকা এবং ভাড়া যাচাই করে ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধ করতে হবে।
পেমেন্ট সফল হলে ই-টিকিট সাধারণত নিবন্ধিত ই-মেইলে পাঠানো হয়। এ ছাড়া ওয়েবসাইটের অ্যাকাউন্ট থেকেও টিকিটের তথ্য দেখা যায়।
যাত্রীসেবায় বাড়তি সুযোগরেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের মতে, মহানগর এক্সপ্রেসের কক্সবাজার পর্যন্ত চলাচল শুরু হলে মধ্যবর্তী জেলার যাত্রীদের জন্য রেলপথে পর্যটনকেন্দ্রটিতে যাতায়াত আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে সড়কপথের ওপর চাপ কমানো এবং রেলওয়ের যাত্রীসেবা সম্প্রসারণেও নতুন এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক