পুলিশের ৫,৮৩০ যানবাহন কিনতে ৬,৬০৮ কোটি টাকার প্রস্তাব

  • প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪০ দুপুর
  • ১৯৫১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
পুলিশের দীর্ঘদিনের যানবাহনসংকট নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রম জোরদার করতে ৫ হাজার ৮৩০টি যানবাহন কেনার প্রস্তাব করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৬০৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা। অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় দুটি প্রকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে।

আগামী ২৫ অক্টোবর সচিবালয়ে একনেকের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করার কথা প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের।

দুই প্রকল্পে ব্যয় ৬,৬০৮ কোটি টাকা

প্রস্তাব অনুযায়ী, ৪ হাজার ৮২৯টি অপারেশনাল যানবাহন কেনার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ১ হাজার ১টি বিশেষায়িত যানবাহন কেনার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় প্রকল্পের ব্যয় সরকার বহন করবে। তবে এখনো কোনো প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

৬৪ শতাংশ যানবাহন ১০ বছরের পুরোনো

প্রকল্প প্রস্তাবে পুলিশের যানবাহনসংকটের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক থানা এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটারজুড়ে পুলিশি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বর্তমানে রয়েছে মাত্র ১ হাজার ২৩৭টি যানবাহন। বিদ্যমান বহরের প্রায় ৬৪ শতাংশ যানবাহনের বয়স ১০ বছরের বেশি।

ফলে নিয়মিত টহল, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্য মোতায়েনের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হয় বাহিনীটিকে।

প্রস্তাবিত যানবাহন যুক্ত হলে পুলিশের চলাচল ও অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল হতে পারে।

বিশেষায়িত বহরে থাকবে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের যান

বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের যান, দুর্গম এলাকায় চলাচলের উপযোগী যানবাহন, ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার এবং অপরাধস্থল পরিদর্শনের জন্য বিশেষায়িত ভ্যান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া নদীপথে পুলিশি কার্যক্রম জোরদার করতে স্পিডবোট ও দেশীয় নৌযান কেনার প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব যানবাহন ও নৌযান টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং জরুরি উদ্ধারকাজে সহায়তা করবে বলে প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণে ব্যয় হবে দক্ষতা উন্নয়নে

যানবাহন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়াতে প্রকল্প দুটিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পের আওতায় ৬৫০ জনকে হালকা যানবাহন চালনা ও মেকানিক্স, ৩০০ জনকে ভারী যানবাহন চালনা ও মেকানিক্স এবং ৫০ জনকে যানবাহন মেরামতের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এ প্রকল্পে রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সরঞ্জাম কেনার জন্য দেড় কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে ৯১০ জন সদস্যকে ড্রাইভিং ও মেকানিক্স এবং আরও ৫০ জনকে মেকানিক্স প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিন অর্থবছরে ব্যয় হবে বরাদ্দ

প্রস্তাবিত ব্যয়ের মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ হাজার ৮০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২ হাজার ৮৬৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৬০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রকল্প দুটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করেছে ‘হকস বে’। অর্থনৈতিক মূল্যায়নে উভয় প্রকল্পের ব্যয়-সুবিধা অনুপাত ১ দশমিক ০৫ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ সমীক্ষার হিসাব অনুযায়ী, প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা আনুমানিক ব্যয়ের চেয়ে সামান্য বেশি।

অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পের সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব গত ১৫ অক্টোবর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় পর্যালোচনা করা হয়। কমিটির সুপারিশে বিদেশি প্রশিক্ষণের প্রস্তাব বাদ দিয়ে প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়। অন্যদিকে, বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের পর্যালোচনা শেষে একনেকের বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রকল্প দুটি অনুমোদন পেলে পুলিশের যানবাহন ও অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এ বিনিয়োগের সুফল নিশ্চিত করতে যানবাহনের যথাযথ বণ্টন, কার্যকর ক্রয়প্রক্রিয়া, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দ্রুত জনসেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad