এনসিপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে আবারো যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ মাহদি

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৯ দুপুর
  • ২৩২৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg এনসিপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে আবারো যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ মাহদি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে আবারও কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি। দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় কমিটিতেও একই পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক সংগঠন গঠন ও দলীয় কার্যক্রমে শুরু থেকেই সক্রিয় রয়েছেন এই তরুণ আলেম ও রাজনীতিক।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে শাপলা কলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আশরাফ মাহদি।

জাতীয় নাগরিক কমিটি থেকে এনসিপিতে

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে যুক্ত হন আশরাফ মাহদি। জাতীয় নাগরিক কমিটির সার্চ কমিটির সদস্য হিসেবে তাঁর আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। পরে তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

এনসিপি গঠিত হলে কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পাশাপাশি দলটির রাজনৈতিক লিয়াজোঁ কমিটি ও শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হিসেবেও কাজ করেন তিনি। বর্তমানে মূল দলের দায়িত্বের পাশাপাশি এনসিপির সহযোগী সংগঠন ‘ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স’-এর আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গুম, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা

রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময় দমন-পীড়নের শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে আশরাফ মাহদির। ২০১৭ সালে অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণ থেকে তিনি গুমের শিকার হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালে মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়ার পথে দুবাইয়ে ট্রানজিট অবস্থায় তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তার করা হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা ও বিরোধিতার কারণে তিনি একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার ও কারাবরণের শিকার হন বলে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর গ্রেপ্তারের ঘটনায় দেশের আলেম সমাজের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ইসলামী রাজনীতি থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান

ইসলামী রাজনীতির মধ্য দিয়ে আশরাফ মাহদির রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। ইসলামী ঐক্যজোটের সাবেক চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলামের নেতা প্রয়াত মুফতি ফজলুল হক আমিনীর দৌহিত্র তিনি। ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্র খেলাফতের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তিনি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ‘সাধারণ আলেম সমাজ’-এর ব্যানারে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের সংগঠিত করতেও ভূমিকা রাখেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কওমি মাদ্রাসা ও আল-আজহারে পড়াশোনা

আশরাফ উদ্দিন মাহদি ঢাকার জামেয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ থেকে দাওরায়ে হাদিস ও ইফতা সম্পন্ন করেন। পরে মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামী আইন ও আইনবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তরুণ আলেমদের ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ ‘তরুণ আলেম প্রজন্ম-২৪’-এর সঙ্গেও যুক্ত হন তিনি। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: দৈনিক আমার দেশ, ২৩ অক্টোবর ২০২৬; এনসিপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ও মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদির রাজনৈতিক জীবনসংক্রান্ত প্রকাশিত প্রতিবেদন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad