ছুটির দিনে সড়কে প্রাণহানি

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০১ দুপুর
  • ২০৩৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
দেশের বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ফরিদপুরে মা-ছেলেসহ পাঁচজন, গাজীপুরের কালীগঞ্জে পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও বিএনপির এক নেতা, কক্সবাজারের চকরিয়ায় দুই যুবক, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় অটোরিকশার দুই যাত্রী এবং মাদারীপুরে এক হোটেল ব্যবসায়ী রয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে।কালীগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতা নিহত

গাজীপুরের কালীগঞ্জে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় পুলিশের এসআই মিজানুর রহমান ও বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের আরও দুই সদস্য আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে টঙ্গী-ঘোড়াশাল মহাসড়কে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, রাতে পৌর এলাকায় টহল ও পরোয়ানা তামিলের সময় পুলিশ সদস্যরা কয়েকজন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যান পুলিশ সদস্যদের ও রফিকুল ইসলামকে ধাক্কা দেয়। এসআই মিজানুর রহমান গাড়িটির সঙ্গে আটকে গেলে চালক তাঁকে প্রায় আধা কিলোমিটার টেনে নিয়ে যান।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসআই মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং দায়ীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ফরিদপুরে পৃথক দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু

ফরিদপুর সদর ও মধুখালী উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সদর উপজেলার কানাইপুরে বালুবোঝাই ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে মা-ছেলের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে মধুখালীতে বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান তিনজন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে মধুখালীতে ঢাকাগামী কিংফিশার পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মাগুরাগামী অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা তিনজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তাঁদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। বাসের যাত্রীদের হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

করিমপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অ্যাম্বুলেন্স উদ্ধার করে।

অন্যদিকে বিকেলে কানাইপুরের তেঁতুলতলায় বালুবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে প্রাইভেটকার ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের ওপর পড়ে। এতে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের সুমি বেগম (৩২) ও তাঁর ছেলে শাওন (৭) নিহত হন। সুমির স্বামী পলাশ গুরুতর আহত হয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর শহর থেকে কানাইপুরগামী ট্রাকটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সংঘর্ষ হয়। এরপর ট্রাকটির চাকা বিস্ফোরিত হলে সেটি মহাসড়কে উল্টে যায়। এ সময় সামনে থাকা প্রাইভেটকার ও ইজিবাইক ট্রাকটির নিচে চাপা পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালান। পরে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মা-ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন।

চকরিয়ায় বাস-পিকআপ সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাস ও সবজিবোঝাই পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী নয়াপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন টেকনাফের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (২৭) ও চকরিয়ার মোহাম্মদ ইয়াছিন (২৬)।

মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসআই) সেলিম মিয়া জানান, কক্সবাজারমুখী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা পিকআপের সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপের কেবিন দুমড়ে-মুচড়ে গেলে ভেতরে থাকা দুই যুবক ঘটনাস্থলেই মারা যান। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়েছে।

সাতকানিয়ায় বাসের চাপায় দুই যাত্রী নিহত, আগুন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বাসের চাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের নয়াখাল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ লোকজন সড়ক অবরোধ করে বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কেরাণীহাট থেকে চট্টগ্রাম শহরগামী একটি মিনিবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নয়াখাল এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল ও অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশার যাত্রীরা হতাহত হন।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আবসার জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

মাদারীপুরে পুলিশের রেকারের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ব্যবসায়ী

মাদারীপুরের তাঁতীবাড়ি এলাকায় পুলিশের রেকারের সঙ্গে প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে সেলিম হাওলাদার নামে এক আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সেলিম হাওলাদার সদর উপজেলার বাগেরপাড় এলাকার মৃত নাজিম উদ্দীন হাওলাদারের ছেলে। তিনি হোটেল মেট্রোর মালিক ছিলেন।

পুলিশ জানায়, সেলিম নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে ভূরঘাটা থেকে মাদারীপুর শহরে ফিরছিলেন। পথে তাঁতীবাড়ি এলাকায় দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি উদ্ধারে মহাসড়কে থাকা পুলিশের রেকারের সঙ্গে তাঁর গাড়ির ধাক্কা লাগে। এতে গুরুতর আহত সেলিমকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

একই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মহাসড়কে দ্রুতগতির যানবাহন, মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অন্য যানবাহনের ওপর পড়ে যাওয়ার মতো ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনার কারণ নিরূপণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad