শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেই বৈঠক নীতিতে বলেন্দ্র শাহ, কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৮ মে ২০২৬, ০৯:০৯ রাত
  • ৪৩৩৩৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেই বৈঠক নীতিতে বলেন্দ্র শাহ, কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ বিদেশি উচ্চপদস্থ কূটনীতিকদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক বাতিল করায় দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রী থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধির সঙ্গেও বৈঠক না করায় কাঠমান্ডুর অবস্থানকে ঘিরে নানা ব্যাখ্যা তৈরি হয়েছে।

ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রীর সাম্প্রতিক কাঠমান্ডু সফর শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়। কৈলাস–মানস সরোবর যাত্রা ও দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে ওই সফরের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত ছিল বলে জানা যায়। তবে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে হঠাৎ করেই বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি, বলেন্দ্র শাহ কূটনৈতিক আলোচনায় সমমর্যাদার রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের বৈঠকেই আগ্রহী। সেই অনুযায়ী তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে চান বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমলা পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে অনীহা থেকেই এই সিদ্ধান্ত বলে দাবি করা হচ্ছে।

শুধু ভারতের ক্ষেত্রেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষ কূটনীতিকের সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করেননি বলে জানা গেছে। নেপাল সরকার জানিয়েছে, প্রশাসনিক সংস্কার ও অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকার কারণেই এসব বৈঠক স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে কেবল রাষ্ট্রপ্রধান বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গেই বৈঠক করা হবে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত–নেপাল সীমান্ত বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

ভারতের দাবি, এসব অঞ্চল ঐতিহাসিকভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে নেপাল নতুন মানচিত্রে অঞ্চলগুলোকে নিজেদের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাড়িয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান অবস্থান নেপালের ‘ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি’ কৌশলের অংশ। আবার কেউ কেউ এটিকে কঠোর কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন, যার মাধ্যমে বড় শক্তিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

এদিকে চীনের সঙ্গে নেপালের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতাও আলোচনার বাইরে নয়। অবকাঠামো, বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সহযোগিতায় বেইজিংয়ের সঙ্গে কাঠমান্ডুর সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে আরও গভীর হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নেপাল এখনো অনেকাংশে ভারতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কূটনৈতিক কঠোর অবস্থান দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

সূত্র: আনন্দবাজার




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad