ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার: একসঙ্গে ৫৮ জেলায় আতঙ্ক, হামের মধ্যেই নতুন সংকট

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২২ জুন ২০২৬, ১১:০০ দুপুর
  • ১০১৩৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু। একসময় বর্ষাকালকেন্দ্রিক রোগ হিসেবে পরিচিত থাকলেও এখন বছরের প্রায় সব সময়ই ডেঙ্গুর সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। চলতি বছরে ইতোমধ্যে দেশের ৫৮টি জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের প্রথম ২১ দিনেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭০৩ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ২২০ জন আক্রান্ত হয়েছেন—যা এ বছরের এক দিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ ও মৃত্যুর রেকর্ড। মে মাসে আক্রান্ত ছিলেন ৭১৪ জন এবং এপ্রিলে ৬৪০ জন। ফলে সংক্রমণের হার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে বরিশাল বিভাগে। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। বরিশালের ছয় জেলাতেই সংক্রমণ বেশি হওয়ায় পুরো বিভাগজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জনসচেতনতার অভাবের কারণে ডেঙ্গু এখন আর শুধু শহরকেন্দ্রিক রোগ নয়—এটি গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ২১ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৯০০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৬২.৭ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৩ শতাংশ নারী।

বিগত বছরগুলোর পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালে দেশে এক লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয় এবং ১৭৯ জন মারা যান। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় ২০২৩ সালে, যখন মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৭০৫ এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ২১ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

এদিকে, ২০২৬ সালের পূর্ববর্তী জরিপে দেখা গেছে, রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বিস্তৃত হয়েছে। ঢাকায় কিছু এলাকায় ঝুঁকি বেশি থাকলেও এবার দেশের বিভিন্ন বিভাগে সমানভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার জাতীয় কমিটি পুনর্গঠন করেছে এবং সারা দেশে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। রাজধানীতে ফগিং, লার্ভিসাইডিং এবং মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়েও ডেঙ্গু কর্নার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ফগিং বা অস্থায়ী ব্যবস্থা দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তারা বলছেন, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত নজরদারি এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, নাগরিক সচেতনতা ছাড়া সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা এবং প্রজননস্থল ধ্বংসে ব্যক্তিগত উদ্যোগ বাড়াতে হবে।

সব মিলিয়ে, হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই ডেঙ্গুর এই বিস্তার দেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad