দীর্ঘ ১৪ মাস পর ফিরছে জাতীয় ক্যাম্পেইন: ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশুকে খাওয়ানো হবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল

  • শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ
  • আপলোড সময় : ২৪ জুন ২০২৬, ০৩:৩৬ দুপুর
  • ৯২০০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

দেশব্যাপী আগামী ২৮ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। দীর্ঘ ১৪ মাস বিরতির পর আবারও শুরু হচ্ছে এ গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান (আইপিএইচএন) জানিয়েছে, এবারের ক্যাম্পেইনে মোট ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশাকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানান, ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন ও বাসস্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আরও ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে এবং মাঠপর্যায়ে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্ধারিত দিনে নিকটস্থ কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানীর শাহবাগে আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন।

এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা স্থানীয়ভাবে তদারকির দায়িত্ব পালন করবেন। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিয়ম অনুযায়ী বছরে দুইবার এ ক্যাম্পেইন আয়োজনের কথা থাকলেও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের সংকটের কারণে গত বছরের মার্চের পর আর কোনো কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে প্রায় ১৪ মাস পর পুনরায় শুরু হচ্ছে এ কার্যক্রম।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আমরা আবার জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন চালু করছি। শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর দৃষ্টিশক্তি রক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ার ঝুঁকি হ্রাস এবং অপুষ্টিজনিত জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি এটি শিশুমৃত্যুর ঝুঁকিও কমাতে সহায়ক।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচি’ হিসেবে ভিটামিন ‘এ’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে এর নামকরণ করা হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’ এবং ২০১১ সালে এটি জাতীয় পুষ্টিসেবা কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

সূত্র: বাসস




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad