স্বাস্থ্য খাতে ৮০ হাজার পদ শূন্য, জনগণের পকেট থেকে ব্যয় ১.৫ লাখ কোটি টাকা

  • মোঃ আল আমিন হোসেন,বার্তা সম্পাদক
  • আপলোড সময় : ২৪ জুন ২০২৬, ০৬:২৯ বিকাল
  • ৭৬৮০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

শুধু বাজেট বাড়ালেই হবে না, প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার ও জনবল সংকট নিরসন: সংসদে এমপি মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও জনবল সংকট, চিকিৎসা সরঞ্জামের অচলাবস্থা, ওষুধ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা দূর না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৮০ হাজার পদ শূন্য রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মানদণ্ডের তুলনায় বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় জনবলের মাত্র ১৮ শতাংশ কর্মরত রয়েছে, যা স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

স্বাস্থ্য বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১ শতাংশ বরাদ্দ ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও দীর্ঘমেয়াদে এ হার ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী অনেক দেশ ইতোমধ্যে এ লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

সংসদ সদস্য ফরিদ বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর করতে চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। অনেক স্বাস্থ্যকর্মী গ্রামীণ এলাকায় কর্মস্থলে অবস্থান না করায় সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, গত অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতের পরিচালন ব্যয় থেকে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা অব্যবহৃত থেকে গেছে। অথচ দেশে বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত যুবক কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় রয়েছেন। পরিকল্পিত জনবল উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

জনগণের স্বাস্থ্য ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরে এমপি ফরিদ বলেন, সরকারের স্বাস্থ্য বাজেট প্রায় ৬৯ হাজার কোটি টাকা হলেও জনগণকে নিজেদের পকেট থেকে ব্যয় করতে হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা ওষুধ এবং ২৫ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পেছনে ব্যয় হচ্ছে।

অপ্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অর্ধেকেরও বেশি চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সামান্য মেরামতের অভাবে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। এসব দ্রুত সচল করা গেলে রোগীদের অতিরিক্ত খরচ অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

এসডিজি-৩ অর্জনের লক্ষ্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বরাদ্দ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে গবেষণা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বাজেটের আকার বাড়ালেই হবে না, বরং বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান বাস্তবায়ন করতে পারলেই সাধারণ মানুষ প্রকৃত সুফল পাবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad