২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এফ’-এ নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে জাপান ও সুইডেন। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় টেক্সাসের আরলিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ।
দুই দলই ইতোমধ্যে একটি করে জয় পেয়েছে। তবে পয়েন্ট তালিকায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে জাপান। চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে থাকা এশিয়ার প্রতিনিধিরা এই ম্যাচে ড্র করলেই নিশ্চিত করবে শেষ ৩২-এর টিকিট। একই সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগও রয়েছে তাদের সামনে।
দ্বিতীয় ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে বিশ্বকাপে প্রথম জয় তুলে নেয় জাপান। ওই ম্যাচে জোড়া গোল করার পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্ট করেন ফরোয়ার্ড আয়াসে উয়েদা। অন্যদিকে ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে গোল করে বিশ্বকাপে জাপানের ইতিহাসে দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েন দাইচি কামাদা। কোচ হাজিমে মোরিয়াসুর দল বর্তমানে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে; সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা নয় ম্যাচ অপরাজিত তারা।
অন্যদিকে বিশ্বকাপ মিশন দারুণভাবে শুরু করেছিল সুইডেন। প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে হারালেও দ্বিতীয় ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে কিছুটা চাপে পড়ে ইউরোপের দলটি। তিন পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে তারা অবস্থান করছে গ্রুপের তৃতীয় স্থানে।
তবে নকআউটে ওঠার আশা এখনও উজ্জ্বল সুইডিশদের। জাপানের বিপক্ষে অন্তত ড্র করতে পারলে শেষ ৩২-এ জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে। আক্রমণভাগে ভিক্টর গিয়োকেরেস ও আলেক্সান্ডার ইসাক জুটির দিকে তাকিয়ে থাকবে কোচ গ্রাহাম পটারের দল।
দলীয় খবরে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে জাপান শিবিরে। অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো চোটের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন। এছাড়া হাঁটুর সমস্যায় ভুগছেন তারকা মিডফিল্ডার তাকেফুসা কুবো। অসুস্থতার কারণে এখনও মাঠে নামা হয়নি শুতো মাচিনোর।
সুইডেন শিবিরে নতুন কোনো বড় ইনজুরি না থাকলেও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর একাদশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বদলি হিসেবে নেমে গোল করা অ্যান্থনি এলাঙ্গা শুরুর একাদশে সুযোগ পেতে পারেন।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাই দুই দলের লক্ষ্য স্পষ্ট। জাপান চাইবে জয় কিংবা ড্র করে নকআউট নিশ্চিত করতে, আর সুইডেন খুঁজবে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ফল। ফলে আরলিংটনের লড়াইটি হতে যাচ্ছে গ্রুপ ‘এফ’-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর একটি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক