ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দীর্ঘ ১৮ বছর পর মহাসচিব পদে পরিবর্তন এসেছে। দলের নতুন মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন গাজী মাওলানা আতাউর রহমান। তবে আমিরের পদে কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় এ নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী সংগঠনে নেতৃত্বের পরিবর্তন স্বাভাবিক বিষয় হলেও তা নির্ভর করে দায়িত্বশীল ব্যক্তির যোগ্যতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং সংগঠনের প্রয়োজনের ওপর।
তিনি বলেন, “কেউ যদি মৌলিক কোনো সমস্যায় না পড়েন এবং দায়িত্ব পালনে সক্ষম থাকেন, তাহলে তিনি দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকতে পারেন। অনেকেই ১৮ বছরকে দীর্ঘ সময় মনে করেন। কিন্তু আমার বিশ্বাস, সাবেক মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ আরও ১০ বছর দায়িত্ব পালন করলেও তাতে কোনো সমস্যা হতো না।”
আমিরের পদে পরিবর্তন না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে নতুন মহাসচিব বলেন, “ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে একজন নেতার বিচার-বিবেচনার সক্ষমতা ও শারীরিক সামর্থ্য অক্ষুণ্ন থাকলে কেবল সময়ের হিসেবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—যাদের নেতৃত্ব দেওয়া হচ্ছে, তারা বর্তমান আমিরকে রাখতে চান কি না। সংগঠনের সিদ্ধান্তই এখানে মুখ্য, বাইরের মতামত নয়।”
এর আগে গাজী মাওলানা আতাউর রহমান দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ ২০০৮ সাল থেকে টানা মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। নতুন কমিটিতে তাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দলের নতুন দায়িত্ব বণ্টনের মধ্য দিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাংগঠনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এলেও আমিরের পদে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে।

প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক