ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও স্মরণানুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র আবেগ ও ক্ষোভের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তেহরানভিত্তিক সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আব্বাস আসলানি শুক্রবার আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, জানাজা ও স্মরণানুষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত আনুষ্ঠানিক স্লোগান "আমাদের জেগে উঠতে হবে"। এই স্লোগানের মাধ্যমে ইরানের জনগণের উদ্দেশে বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও রাষ্ট্রের নীতি, আদর্শ ও প্রতিরোধের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
তিনি বলেন, সর্বোচ্চ নেতার দাফন ইরানি জনগণের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন একটি মুহূর্ত। লাখো মানুষ তাদের নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে একত্রিত হচ্ছেন। তবে এই আবেগঘন পরিবেশ থেকেই হামলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার দাবিও প্রবলভাবে উচ্চারিত হতে পারে।
আসলানির ভাষ্য অনুযায়ী, খামেনি ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও প্রতিরোধ কৌশল শক্তিশালী করার অন্যতম প্রধান স্থপতি ছিলেন। বহির্বিশ্বের রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ মোকাবিলায় তিনি দৃঢ় নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির জানাজাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জনমত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের পরবর্তী রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে, সে দিকেও আন্তর্জাতিক মহলের নিবিড় নজর রয়েছে।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক