ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচনে ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর এক সংসদ সদস্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও পরবর্তী বিতর্কের বিষয়ে দলটির এখন পর্যন্ত কোনো সাংগঠনিক পদক্ষেপ না নেওয়া নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে আবিদুল ইসলাম খান বলেন, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রিউমর স্ক্যানারের তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি নয়, বরং বাস্তব। এ ঘটনায় ভিডিওতে থাকা নারীকে ওই সংসদ সদস্যের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছে জেলা জামায়াত। তবে বিয়ের সময়, প্রক্রিয়া ও অন্যান্য তথ্য নিয়ে দলটির বক্তব্যে স্পষ্টতা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আবিদ বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠলে তা জনজবাবদিহির বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। তিনি লিখেছেন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিষয়টি যেমন নিন্দনীয়, তেমনি একজন সংসদ সদস্যের আচরণ নিয়েও জনপরিসরে নৈতিক জবাবদিহি দাবি করা স্বাভাবিক।
তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচনের আগেও সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের বিভিন্ন বক্তব্যে নারীবিদ্বেষী মনোভাবের প্রকাশ ঘটেছে। তার ভাষায়, “সেসব বক্তব্য দলীয় অবস্থানের প্রতিফলন হতে পারে। তবে এখন প্রশ্ন হলো, এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডও কি দলীয় অবস্থানের অংশ? যদি না হয়, তাহলে দল এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কেন?”
ছাত্রদল নেতা আরও বলেন, বিষয়টি ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রীসংস্থার জন্যও একটি ‘লিটমাস টেস্ট’। তার দাবি, তারা যদি জামায়াতের বাইরে স্বাধীন অবস্থান দাবি করে থাকে, তবে এ বিষয়ে তাদের স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া উচিত।
ফেসবুক পোস্টে আবিদুল ইসলাম খান বিয়ের দাবির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বিয়ের নিবন্ধন, নিকাহনামা, বিয়ের তারিখ বা সংশ্লিষ্ট নারীর পরিচয় সম্পর্কে কোনো প্রামাণ্য তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তার দাবি, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ওই নারী অপ্রাপ্তবয়স্ক (মাইনর) হতে পারেন। যদি তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হন এবং আইন অনুযায়ী বিয়ে হয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট দলিল প্রকাশে বাধা থাকার কথা নয়। অন্যদিকে, বয়স বা সম্মতি নিয়ে কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা ব্যক্তিগত বিষয় না থেকে আইনগত তদন্তের বিষয় হয়ে ওঠে।
তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টির সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা উচিত। বয়স বা সম্মতি-সংক্রান্ত কোনো অনিয়মের প্রমাণ মিললে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় সংসদের প্রতি দ্রুত ও স্বচ্ছ অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান। তার মতে, নীরবতা বা অস্পষ্ট ব্যাখ্যা জনমনে আরও প্রশ্ন তৈরি করছে এবং রাজনৈতিক দলের নৈতিক অবস্থানকেও বিতর্কের মুখে ফেলছে।
তবে পোস্টের শেষাংশে আবিদুল ইসলাম খান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, কারও ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও তার সম্মতি ছাড়া প্রকাশ বা ছড়িয়ে দেওয়া একটি অপরাধ এবং এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এমন ঘটনার নিন্দা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে দলেরই হোন না কেন, সমানভাবে হওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এ বিতর্ক একজন সংসদ সদস্যের নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক