চট্টগ্রামের পটিয়ায় সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২৬’-এর তথ্য সংগ্রহকারীদের তালিকায় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এক ব্যক্তির নাম থাকায় স্থানীয় বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগ ওঠা ব্যক্তি আসহাব উদ্দীন। তিনি উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দাবি, আসহাব উদ্দীন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর অংশগ্রহণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের মতো পটিয়া উপজেলায়ও ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২৬’ বাস্তবায়নের জন্য সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে প্রকাশিত তালিকায় হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে আসহাব উদ্দীনের নাম রয়েছে।
তালিকা প্রকাশের পর তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এনে আসহাব উদ্দীনের দায়িত্ব বাতিলের দাবি জানান।
হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন যুবদলের সংগঠক মোহাম্মদ জুয়েল বলেন, ‘তালিকায় নাম আসার পর আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তির হাতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির দায়িত্ব থাকলে প্রকৃত তথ্য উঠে আসবে না।’
তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া উচিত। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম নয়ন বলেন, আসহাব উদ্দীন ছাড়াও আরও কয়েকজনের নাম ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তালিকায় এসেছে, যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
তবে আসহাব উদ্দীনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বলেন, ‘যাদের ব্যাপারে অভিযোগ আসবে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ তদন্তের আশ্বাস দেওয়ার পর বিষয়টি এখন যাচাই-বাছাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক