কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ গেল ৯ বাংলাদেশির

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪১ দুপুর
  • ৭৭৮৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতের এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতার নিউ মার্কেটের পাশে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলের চতুর্থ তলায় রাত ৩টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কলকাতা পুলিশ ও দমকল বাহিনী। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

অগ্নিকাণ্ডে হোটেলের একটি অংশ পুড়ে যায়। আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে আটকা পড়েন হোটেলের বেশ কয়েকজন আবাসিক। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ধোঁয়ায় অসুস্থ ও অচেতন হয়ে পড়া কয়েকজনকে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

প্রাথমিকভাবে দমকল ও পুলিশের ধারণা, হোটেলের একটি এসি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাতে হোটেলের অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকার সময় আগুন লাগে। ভবনটির প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ছিল একটি এবং সেটি ছিল বেশ সংকীর্ণ। হোটেলে জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা বা আপৎকালীন গেট না থাকার অভিযোগও করেছেন সেখানে অবস্থানকারীরা।

আগুন লাগার পর ধোঁয়ায় অনেকে ঘর থেকে বের হতে পারেননি। কেউ কেউ বাথরুমে আশ্রয় নিয়ে জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। পরে দমকলকর্মীরা ভবনের বিভিন্ন অংশে থাকা আবাসিকদের উদ্ধার করেন।

হোটেলে থাকা দুই ব্যক্তি মঙ্গলবার রাতে রামপুরহাট থেকে কলকাতায় এসেছিলেন। তাদের একজন ইজাজ আহমেদ জানান, তারা ভবনের চতুর্থ তলায় একটি গেস্ট হাউসে ছিলেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তারা। রাত সোয়া ২টার দিকে দুই নারীর চিৎকারে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। দরজা খোলার পর ঘরের ভেতর ধোঁয়া ঢুকে পড়লে তারা বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।

ইজাজ আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘর থেকে বের হওয়ার বারান্দাটি ছিল খুবই সরু এবং ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ঢেকে গিয়েছিল।

ভবনের সর্বোচ্চ তলায় বসবাসকারী একটি পরিবারকেও পরে উদ্ধার করা হয়। ওই পরিবারের এক নারী অভিযোগ করেন, হোটেল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা স্থাপনের কথা বলা হলেও তা করা হয়নি। এমনকি প্রশাসনের কাছেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের পরিচয় ও তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad