গত বুধবার নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ হিমবাহধসের ঘটনা ঘটে। এতে পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোতে নেপালের বিভিন্ন গ্রাম ও শহর প্লাবিত হয়। দুর্যোগের পঞ্চম দিনে দেশটিতে অন্তত ৬৭৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা চিতওয়ানেই পাওয়া গেছে ২৩৩টি মরদেহ।
চিতওয়ানে মরদেহ সংরক্ষণ নিয়ে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছে। হাসপাতালগুলোতে মরদেহ রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই। মরদেহের সংখ্যা বাড়তে থাকায় একটি বাড়িকে অস্থায়ীভাবে মরদেহ রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। সেখানেও জায়গা শেষ হয়ে যাওয়ায় দাফন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘ সময় অস্থায়ীভাবে রাখা মরদেহ পচে যাওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তবে দাফনের পরও যাতে মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়, সে ব্যবস্থা রেখেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি মরদেহ দাফনের আগে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিটি মরদেহকে দেওয়া হচ্ছে আলাদা শনাক্তকরণ নম্বর। কোন মরদেহ কোথায় দাফন করা হয়েছে, সেই তথ্যও সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
শনিবার বিকেল পর্যন্ত ১০০টির বেশি মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এসব মরদেহ দাফনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
মরদেহগুলো প্রায় ১ দশমিক ৫ মিটার গভীর কবরে দাফন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে যাতে সহজে মরদেহ উত্তোলন করা যায়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। প্রতিটি কবরের মধ্যে প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্ব রাখা হচ্ছে। ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট মরদেহটি সহজেই শনাক্ত ও উত্তোলন করা যাবে।
প্রতিটি মরদেহ নম্বরযুক্ত ব্যাগে রাখা হচ্ছে। কবরের পাশে স্থাপন করা হচ্ছে কংক্রিটের প্ল্যাটফর্ম ও পরিচয়ফলক। সেখানে মরদেহের শনাক্তকরণ নম্বর উল্লেখ থাকবে।
এ ছাড়া পুরো দাফনপ্রক্রিয়া ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে নথিভুক্ত করা হচ্ছে। কবরগুলোর অবস্থান জিও-ট্যাগ করে রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে কর্তৃপক্ষের।
ডিএনএ মিললেই স্বজনদের কাছেনিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছেন এমন ব্যক্তিদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ডিএনএ নমুনা দিতে হবে। পরে স্বাস্থ্য বিভাগ স্বজনদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহের ডিএনএ মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করবে।
পরিচয় নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট মরদেহের শনাক্তকরণ নম্বরের মাধ্যমে পুলিশ কবরটির সঠিক অবস্থান খুঁজে বের করবে। এরপর মরদেহটি কবর থেকে তুলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পরিচয়হীন ও দাবিদারহীন মরদেহগুলোর তথ্য পুলিশ একটি ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করেছে।
এদিকে নেপালে এখনো ২ হাজার ৪২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েক শ বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স