কবি আল মুজাহিদী বাংলা কবিতার অবিস্মরণীয় নাম

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৬ রাত
  • ৪২৮৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
প্রয়াত কবি আল মুজাহিদী বাংলা কবিতার এক অনন্য ব্যক্তিত্ব ও অবিস্মরণীয় নাম। তাঁর কবিতায় দেশজ আধুনিকতার প্রকাশের পাশাপাশি বিদেশি পুরাণের মধ্যেও মানবিক মৈত্রীর অন্বেষণ ছিল। কবিতা বিষয়ক গদ্য, বিভিন্ন ভাষার গুরুত্বপূর্ণ কবিতার অনুবাদ এবং শিশু-কিশোর সাহিত্যেও তিনি স্বাতন্ত্র্যের পরিচয় দিয়েছেন। সাহিত্য সাময়িকী সম্পাদনার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বুধবার বিকেলে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে প্রয়াত কবি আল মুজাহিদী স্মরণে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

‘মৃত্তিকার কবি আল মুজাহিদী’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও প্রাবন্ধিক ড. মাহবুব হাসান। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত কবির স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির সচিব ড. মো. সেলিম রেজা। আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার।

আলোচকরা বলেন, আল মুজাহিদীর কবিতায় এ দেশের মাটি ও মানুষের জীবন অসাধারণ নৈপুণ্যে ফুটে উঠেছে। তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যেই তাঁর মনোজগতের পরিচয় পাওয়া যায়। মানবতাবিরোধী সাম্রাজ্যবাদী ধ্বংসযজ্ঞ ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থানও ছিল স্পষ্ট।

বক্তারা জানান, ১৯৬৩ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বসে লেখা ‘কাঁদো হিরোশিমা, কাঁদো নাগাসাকি’ কবিতার মধ্য দিয়ে তাঁর এই কাব্যযাত্রার সূচনা। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত মানবতাবিরোধী সাম্রাজ্যবাদী ধ্বংসযজ্ঞের নৃশংসতা তাঁর কবিতায় গভীরভাবে উঠে এসেছে। মানব-ইতিহাসের হিংস্রতার বিরুদ্ধে তাঁর চিন্তা ও প্রতিবাদী চেতনা ছিল তীক্ষ্ণ।

সাহিত্যাঙ্গনে আল মুজাহিদী ‘মৃত্তিকার কবি’ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। বক্তাদের ভাষ্য, তাঁর কবিতায় মাটি নানা রূপ ও ব্যঞ্জনায় উপস্থিত হয়েছে। এই ভূখণ্ডের ইতিহাস, সভ্যতা ও মানুষের সঙ্গে তাঁর ছিল গভীর সম্পর্ক। নক্ষত্রের জগতের কথা বললেও শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্তিকায় ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষাই ব্যক্ত করেছেন।

আলোচকরা আরও বলেন, আল মুজাহিদী একই সঙ্গে কবি, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক, সম্পাদক ও বুদ্ধিবৃত্তিক যোদ্ধা ছিলেন। তাঁর কবিতায় বাংলাদেশ নিজস্ব শৈলী ও ভাষাভঙ্গিতে প্রতিফলিত হয়েছে। এ দেশের লড়াকু মানুষের ঐতিহ্য তাঁর কবিতা ও সামগ্রিক সাহিত্যকর্মে আমৃত্যু প্রকাশ পেয়েছে।

সাহিত্য সম্পাদক হিসেবেও আল মুজাহিদীর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘদিন দৈনিক ইত্তেফাক-এর সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর অনুসন্ধান ও পরিচর্যায় বহু প্রতিভাবান লেখক সাহিত্যজগতে নিজেদের পথ খুঁজে পান।

বক্তারা বলেন, জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের অকুতোভয় যোদ্ধা আল মুজাহিদীর কবিকণ্ঠে শান্তি, মানবতা, সমতা ও মৃত্তিকালগ্ন আধুনিকতার আকাঙ্ক্ষা সবসময়ই ধ্বনিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে কবির কন্যা পরমা আল মুজাহিদী বলেন, তাঁর বাবা সবসময় কবিতায় দেশ ও দেশের মানুষের কথা তুলে ধরেছেন। আল মুজাহিদীর সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মকে ভাষা, সাহিত্য ও দেশপ্রেমের প্রেরণা জোগাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক সায়েরা হাবীব।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad