শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নগরের খুলশীর ওয়্যারলেস মোড় ও পাহাড়তলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, ওয়াকিল হোসেন পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে মারধর এবং অধ্যক্ষকে ভিডিও কলে রেখে নির্যাতনের মামলার ২ নম্বর আসামি। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৭টি মামলা রয়েছে। একটি মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিম বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ওয়াকিল হোসেনকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশ ওয়্যারলেস এলাকায় পৌঁছালে তাঁর সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে ইট-পাটকেল ও ককটেল সদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
হামলায় ওসি আবদুর রহিমসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তিন থেকে চারটি সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ওয়াকিলের সহযোগীরা পালিয়ে যায়।
পরে ওয়্যারলেস কলোনিতে ওয়াকিল হোসেনের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে একটি গোপন সুড়ঙ্গের সন্ধান পায় পুলিশ। পুলিশের দাবি, অভিযানের খবর পেয়ে ওই সুড়ঙ্গপথ দিয়ে আগেই পালিয়ে যান তিনি। পালিয়ে যাওয়ার পর মোবাইল ফোন ও ভিডিও কলে পুলিশকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই বছর ধরে খুলশী ও পাহাড়তলীর পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় কাটা, জমি দখল, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে ওয়াকিল হোসেনের নাম এসেছে। খুলশী, পাহাড়তলী ও আকবর শাহ এলাকায়ও তাঁর বিরুদ্ধে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
ওয়াকিল হোসেন ওয়্যারলেস কলোনির বাসিন্দা মোহাম্মদ জাবেদের ছেলে। তিনি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গত ৮ জুন তাঁকে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
ওসি আবদুর রহিম বলেন, ওয়াকিল হোসেনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক