স্মার্টফোন সুরক্ষায় পাসওয়ার্ড, নাকি পিন—কোনটি বেশি নিরাপদ

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগ বা ছবি তোলার যন্ত্র নয়। ব্যাংকিং, ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্যক্তিগত ছবি ও গুরুত্বপূর্ণ নানা তথ্য সংরক্ষিত থাকে এতে। ফলে ফোন হারানো বা চুরি হলে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের পাশাপাশি বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এ কারণে শক্তিশালী স্ক্রিন লক ব্যবহার করা ডিজিটাল নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অনেকের ধারণা, যত দীর্ঘ ও জটিল পাসওয়ার্ড হবে, ফোন তত বেশি নিরাপদ। তবে স্ক্রিন লকের ক্ষেত্রে শুধু দৈর্ঘ্য নয়, সেটি কতটা অনুমান করা কঠিন এবং ব্যবহারকারী কতটা নিরাপদভাবে নিয়মিত ব্যবহার করতে পারছেন—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘ ও জটিল পাসওয়ার্ড নিরাপত্তা বাড়াতে পারে। কিন্তু প্রতিবার ফোন আনলক করার সময় জটিল পাসওয়ার্ড টাইপ করা অনেকের জন্য অসুবিধাজনক। ফলে কেউ কেউ সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন কিংবা সেটি অনিরাপদ জায়গায় লিখে রাখেন। এতে উল্টো নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ ও অনুমান করা কঠিন একটি পিন অনেক ব্যবহারকারীর জন্য কার্যকর বিকল্প হতে পারে। আধুনিক স্মার্টফোনে কয়েকবার ভুল পিন দেওয়ার পর সাধারণত অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু হয়। ফোন সাময়িকভাবে লক হয়ে যেতে পারে বা পরবর্তী চেষ্টা করার আগে নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হয়। ফলে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পিন দিয়ে অনুমান করার চেষ্টা কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে পিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহজ সংখ্যা এড়িয়ে চলা জরুরি। ‘১২৩৪’, ‘০০০০’, ‘১১১১’ বা ‘১২৩৪৫৬’-এর মতো পরিচিত সংখ্যা ব্যবহার করা নিরাপদ নয়। একইভাবে নিজের জন্মতারিখ, পরিবারের সদস্যের জন্মসাল, মোবাইল নম্বরের অংশ কিংবা সহজ সংখ্যার ক্রমও পিন হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। সম্ভব হলে চার সংখ্যার পরিবর্তে দীর্ঘ পিন ব্যবহার করলে সম্ভাব্য সমন্বয়ের সংখ্যা বাড়ে এবং তা অনুমান করা কঠিন হয়।

বায়োমেট্রিক লক কতটা নিরাপদ

বর্তমানে অধিকাংশ স্মার্টফোনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ফেস আনলকের মতো বায়োমেট্রিক সুবিধা রয়েছে। এগুলো দ্রুত ও সুবিধাজনক হলেও সাধারণত পিন, পাসওয়ার্ড বা প্যাটার্নের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে ফোন পুনরায় চালু হওয়ার পর বা নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে মূল লক কোড ব্যবহার করেই ডিভাইস আনলক করতে হয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ফোনের স্ক্রিন লকের পিন বা পাসওয়ার্ড যেন ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ডের সঙ্গে এক না হয়। অনলাইন অ্যাকাউন্টে আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি সম্ভব হলে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু রাখা উচিত।

শুধু স্ক্রিন লক যথেষ্ট নয়

স্মার্টফোন নিরাপদ রাখতে শক্তিশালী স্ক্রিন লকের পাশাপাশি ব্যবহারকারীর সচেতনতাও জরুরি। আনলক করা ফোন অচেনা ব্যক্তির হাতে না দেওয়া, সন্দেহজনক উৎস থেকে অ্যাপ ইনস্টল না করা এবং কোনো অ্যাপ ইনস্টলের আগে সেটি কী কী অনুমতি চাইছে, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সাধারণভাবে অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ ইনস্টল করাই নিরাপদ। অপ্রয়োজনীয় ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, অবস্থান বা যোগাযোগের অনুমতি দেওয়াও এড়িয়ে চলা উচিত।

এ ছাড়া স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ নিয়মিত আপডেট রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে অনেক সময় নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতা দূর করা হয়।

সব মিলিয়ে, নিরাপত্তার দিক থেকে দীর্ঘ ও অনুমান করা কঠিন পিন বা শক্তিশালী পাসওয়ার্ড—দুটিই কার্যকর। তবে ব্যবহারকারীর সুবিধা ও নিয়মিত ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এমন একটি স্ক্রিন লক বেছে নেওয়া উচিত, যা অন্যের পক্ষে অনুমান করা কঠিন এবং নিজের জন্য নিরাপদে ব্যবহার করা সহজ।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad