এআই সার্চ বনাম গুগল সার্চ

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

একসময় ইন্টারনেটে কোনো তথ্য খুঁজতে হলে Google-এ কয়েকটি শব্দ লিখে সার্চ দিতে হতো। এরপর একের পর এক ওয়েবসাইটের লিংক খুলে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে নিতে হতো। কোনো বিষয় জটিল হলে একাধিকবার ভিন্ন ভিন্ন শব্দ দিয়ে সার্চ করাই ছিল স্বাভাবিক পদ্ধতি। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ সেই অভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনছে। এখন ব্যবহারকারী শুধু কয়েকটি ‘কিওয়ার্ড’ লিখছেন না; বরং পুরো প্রশ্নটি স্বাভাবিক ভাষায় করছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি একটি সাজানো উত্তর পাচ্ছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে—তথ্য খোঁজার ভবিষ্যৎ কি প্রচলিত Google Search-এর বদলে AI Search-এর দিকে যাচ্ছে?

Google Search-এর এই মডেল ইন্টারনেট ব্যবহারের অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছে। তবে এখন Google নিজেও এই পদ্ধতিকে এআই দিয়ে নতুনভাবে সাজাচ্ছে। Google-এর AI Overviews সার্চ ফলাফলের ওপরে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত এআই-নির্ভর ধারণা দিতে পারে। আর AI Mode আরো জটিল প্রশ্নকে বিভিন্ন উপবিষয়ে ভাগ করে একসঙ্গে অনুসন্ধান করে উত্তর তৈরি করতে পারে।

AI Search-এর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো ‘কিওয়ার্ড’ থেকে ‘প্রশ্ন’। যেমন আগে কেউ লিখতে পারেন—‘ঢাকা থেকে কক্সবাজার ভ্রমণ’। এখন তিনি প্রশ্ন করতে পারেন, ‘অক্টোবরে ঢাকায় থেকে কক্সবাজার তিন দিনের জন্য গেলে কম খরচে কীভাবে পরিকল্পনা করা যায়?’ এআই-নির্ভর সার্চ সেই প্রশ্নের অর্থ বোঝার চেষ্টা করে। প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে এনে বিভিন্ন বিষয় একসঙ্গে সাজিয়ে দিতে পারে। অর্থাৎ ব্যবহারকারীকে আলাদা করে পরিবহন, হোটেল, খাবার ও দর্শনীয় স্থান—প্রতিটি বিষয়ে আলাদা সার্চ করার প্রয়োজন কমতে পারে।

এখানে AI Search-এর আরেকটি বড় সুবিধা হলো কথোপকথনের ধারাবাহিকতা। প্রথম প্রশ্নের উত্তরের ওপর ভিত্তি করে ব্যবহারকারী দ্বিতীয় প্রশ্ন করতে পারেন। তারপর তৃতীয় প্রশ্ন। ফলে প্রতিবার নতুন করে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হয় না। Google-এর বর্তমান AI Mode-এও অনুসন্ধানের মধ্যে follow-up প্রশ্ন করার সুবিধা রয়েছে। একইভাবে ChatGPT Search ওয়েব থেকে বর্তমান তথ্য খুঁজে এনে সংশ্লিষ্ট উৎসের লিংক ও উদ্ধৃতি দিতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে Google Search-এর প্রয়োজন শেষ হয়ে যাচ্ছে। বরং Google ও AI Search-এর সীমারেখাই বদলে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট কোনো ওয়েবসাইট খুঁজে বের করা। সরকারি নোটিশ দেখা। কোনো প্রতিষ্ঠানের মূল ওয়েবসাইটে যাওয়া। নির্দিষ্ট পণ্য বা সংবাদ পড়া, কিংবা একাধিক উৎস নিজে তুলনা করার ক্ষেত্রে প্রচলিত সার্চ ফলাফলের লিংক এখনো অত্যন্ত কার্যকর। অন্যদিকে কোনো বিষয় বুঝে নেওয়া। কয়েকটি উৎসের তথ্য একত্র করা। দীর্ঘ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া বা কোনো বিষয় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করার ক্ষেত্রে AI Search বেশি স্বাচ্ছন্দ্য দিতে পারে।

তবে AI Search-এর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ভুল তথ্যকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপন করা। এআই কোনো উত্তরকে সুন্দর ও যুক্তিসংগতভাবে সাজাতে পারে। কিন্তু তাতে প্রতিটি তথ্য যে সঠিক—এমন নিশ্চয়তা নেই। এমনকি ওয়েব সার্চ ব্যবহার করলেও ফলাফল অসম্পূর্ণ, পুরোনো বা ভুল হতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ক্ষেত্রে এআই-এর দেওয়া সূত্র খুলে দেখা এবং মূল উৎস যাচাই করা জরুরি। OpenAI-ও তাদের Search ব্যবহারের নির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ক্ষেত্রে উৎস যাচাই করার পরামর্শ দেয়।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad