কৃষকদের ৫ বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ চালিত পানির পাম্প দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

  • প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৮ বিকাল
  • ২৮৮১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সেচকাজে ব্যবহৃত ডিজেলচালিত পানির পাম্প পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্পে রূপান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খান জানতে চান, সেচকাজে ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের পরিবর্তে কৃষকদের বিনামূল্যে সৌরবিদ্যুৎ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে কি না।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় ডিজেলচালিত পাম্প দিয়ে পানি তোলা হয়, সেগুলো আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের আওতায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব

তাজউদ্দীন খানের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং অন্যান্য বিকল্প জ্বালানি উৎস সম্প্রসারণে সরকারের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা বিবেচনায় আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার। ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বানি উন্নয়ন কৌশলপত্রও প্রণয়ন করা হয়েছে।

কৌশলপত্র অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০৩০ সাল পর্যন্ত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ খাতে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট, ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং বায়ু, বর্জ্য, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সোলার ও অ্যাগ্রিভোলটেইক্সসহ অন্যান্য প্রযুক্তি থেকে ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

সৌরবিদ্যুতে শুল্ক ছাড়

প্রধানমন্ত্রী জানান, নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন উৎসাহিত করতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের প্রয়োজনীয় পণ্য—সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ও স্ট্রাকচারের ওপর প্রযোজ্য কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং ২ শতাংশ অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর থেকে শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ গত ১ সেপ্টেম্বর ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিট সর্বোচ্চ ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষ প্রণোদনার অংশ হিসেবে উৎপাদন ব্যয়ের ওপর ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম বিবেচনায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নেট মিটারিং নির্দেশিকা-২০২৫ অনুসরণ করে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেসব গ্রাহক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবেন এবং নিজস্ব ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী তিন বছর—অর্থাৎ ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত—গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাবেন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে নতুন নীতিমালা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন নীতিমালা ও গাইডলাইন প্রণয়ন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘পিপিপি পদ্ধতিতে সরকারি সংস্থার মালিকানাধীন ভূমিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প উন্নয়ন নির্দেশিকা, ২০২৬’, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি অংশগ্রহণ বৃদ্ধি নীতিমালা, ২০২৫’, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫ এবং নেট মিটারিং গাইডলাইন-২০২৫।

এ ছাড়া জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি-২০২৫, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবসায়িক মডেল, ‘অনশোর উইন্ড গাইডলাইন’ এবং কার্বন ক্রেডিট প্রক্রিয়াকরণবিষয়ক গাইডলাইনও প্রণয়ন করা হয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad