ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আমার দেশ পাঠকমেলা’র আলোচনা সভা

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২২ দুপুর
  • ৩৯০৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞানচর্চার বিস্তার, সাহিত্য ও সৃজনশীলতার বিকাশ এবং তরুণদের সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরির লক্ষ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আমার দেশ পাঠকমেলা’র আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যদের একাংশকে নিয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।

‘আমার দেশ পাঠকমেলা’ একটি মানবধর্মী, সাহিত্য ও সেবামূলক সংগঠন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এর শাখা রয়েছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। ২০০৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাঠচর্চা, জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পাঠকদের মধ্যে কাজ করে আসছে।

পাঠাভ্যাস ও জ্ঞানচর্চায় গুরুত্ব

পাঠকমেলার অন্যতম লক্ষ্য হলো মানুষের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ ও পাঠাভ্যাস তৈরি করা। পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা, মুক্তচিন্তা, সাহিত্য ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের প্রসার, শিল্প-সংস্কৃতির চর্চায় উৎসাহ দেওয়া এবং তরুণদের মননশীল, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় সম্পৃক্ত করা, জনকল্যাণ ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা, দেশ-সমাজ-ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, মুক্ত বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ, সেবাধর্মী মানসিকতা তৈরি এবং জ্ঞান অন্বেষণে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করাও সংগঠনটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠকমেলার প্রয়োজনীয়তা

বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চ ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠকমেলার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে জ্ঞান, যুক্তিবোধ ও মননশীলতার বিকাশ, সমসাময়িক বিষয় সম্পর্কে সচেতনতা এবং বিতর্ক, আলোচনা, সেমিনার ও কর্মশালার মাধ্যমে যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

এ ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সামাজিক বন্ধন ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নৈতিক, দায়িত্বশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতেও সহায়ক হতে পারে। দেশ, সমাজ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আগ্রহ ও দায়িত্ববোধ তৈরির পাশাপাশি নতুন ভাবনা ও সৃজনশীল উদ্যোগের ক্ষেত্রও তৈরি হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যপুস্তকনির্ভর জ্ঞান অর্জনের জন্যই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসে না। তাদের সংস্কৃতিচর্চা, সৃজনশীলতা ও নানা বিষয়ে দক্ষতার বিকাশও প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে পাঠকমেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বইপাঠে বাড়ে চিন্তার পরিধি

বই মানুষের চিন্তাকে সমৃদ্ধ করে, জ্ঞানের পরিধি বাড়ায় এবং সমাজ ও দেশ সম্পর্কে দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। এই লক্ষ্য সামনে রেখে পাঠকদের বই পড়ায় উৎসাহিত করা, নতুন পাঠক তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মকে জ্ঞান ও সৃজনশীলতার সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে পাঠকমেলার কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ।

পাঠচক্র, বইপাঠ, আলোচনা, লেখালেখি, সাহিত্যবিষয়ক অনুষ্ঠান ও জ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে পাঠকদের মধ্যে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। এতে বই পড়ার আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি যুক্তিবোধ, বিশ্লেষণী ক্ষমতা, ভাষাগত দক্ষতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পাঠকমেলার শাখা থাকলে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন, বিজ্ঞান ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ আরও বিস্তৃত হতে পারে।

নেতৃত্ব ও সামাজিক দায়বদ্ধতা

অনুষ্ঠান আয়োজন, সংগঠন পরিচালনা ও দলগত কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে দেশ, সমাজ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও সমসাময়িক বিষয় সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতেও পাঠকমেলা ভূমিকা রাখতে পারে।

ডিজিটাল যুগেও পাঠকমেলার কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তরুণদের কাছে বইপাঠের সংস্কৃতিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভব। মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের ইতিহাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক বই পাঠের মাধ্যমে দেশপ্রেম ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ জোরদার করা যায়।

সর্বোপরি, জ্ঞানচর্চা, নেতৃত্ব ও সৃজনশীলতার পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তুলতে ‘আমার দেশ পাঠকমেলা’ কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জ্ঞানভিত্তিক, সচেতন, যুক্তিবাদী ও সৃজনশীল হিসেবে গড়ে তুলতেও সংগঠনটির কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad