বড়াইগ্রামে পাটের বাম্পার ফলন, দাম পেয়ে খুশি চাষিরা

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৯ দুপুর
  • ৩৬১০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত।
নাটোরের বড়াইগ্রামের বাজারগুলোতে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি মণ পাটে প্রায় এক হাজার টাকা বেশি দাম পাচ্ছেন কৃষকরা। পাশাপাশি ফলনও হয়েছে ভালো। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাট জাগ দেওয়ার জন্য পানির সংকটেও পড়তে হয়নি চাষিদের। ফলে ফলন ও দাম—দুই দিক থেকেই সন্তুষ্ট তাঁরা।

গত বছরের শুরুতে নতুন পাট প্রতি মণ ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। এবার মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ নতুন পাট ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়। বর্তমানে দাম আরও বেড়ে প্রতি মণ ৪ হাজার ১০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা হয়েছে। এতে গত বছরের তুলনায় প্রতি মণে অতিরিক্ত ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পাচ্ছেন কৃষকরা।

উপজেলার তারানগর এলাকার কৃষক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘এবার পাটের ফলনও ভালো হয়েছে, আবার দামও ভালো পাচ্ছি। নতুন পাট বিক্রি করে মণে প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা লাভ হচ্ছে।’

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বড়াইগ্রামে ১০ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে গত মৌসুমের শেষ দিকে পাটের সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাট চাষ করেছেন। এবার মোট ১০ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার প্রতি বিঘায় গড়ে ৮ থেকে ৯ মণ পাটের ফলন হয়েছে। গত বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কৃষকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল। তবে এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় সে সমস্যা তেমন হয়নি।

তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকরা। তাঁদের অভিযোগ, বিশেষ করে শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। গত বছর দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরিতে শ্রমিক পাওয়া গেলেও এবার পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও ছাড়ানোর কাজে শ্রমিকপ্রতি দৈনিক ৯০০ টাকা দিতে হচ্ছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি মণ পাটের উৎপাদন খরচ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে।

কৃষকদের হিসাবে, গত বছর প্রতি মণ পাট উৎপাদনে খরচ হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা। এবার সেই খরচ বেড়ে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

ভালো ফলন ও বাড়তি দামের কারণে উপজেলার লক্ষ্মীকোল বাজারে জমে উঠেছে পাটের হাট। সেখানে পাট কিনতে আসা ব্যবসায়ী আবু ইউসুফ বলেন, তাঁরা এ হাট থেকে পাট কিনে ফরিদপুর, খুলনা, যশোর, বগুড়া ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন মোকামে পাঠান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব আল মারুফ বলেন, ‘আবহাওয়া, ফলন ও দাম—সব মিলিয়ে এবার কৃষক পাট চাষ করে লাভজনক অবস্থায় আছেন। ভালো দাম পেলে আগামী বছরগুলোতেও কৃষকরা এ ফসল চাষে আরও আগ্রহী হবেন।’




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad