মালয়েশিয়াসহ শ্রমবাজারের সব সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে: জামায়াত আমির

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩১ বিকাল
  • ৩২৪৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত।

২৫ এজেন্সি বাছাইয়ের মানদণ্ড ও বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশের দাবি

মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে সক্রিয় সব ধরনের সিন্ডিকেট বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, শ্রমবাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট ও সাধারণ শ্রমিকদের ওপর শোষণ মেনে নেওয়া হবে না। এমনকি সিন্ডিকেটে তাঁর কোনো স্বজন জড়িত থাকলেও তাঁকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘সিন্ডিকেট ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

২৫ এজেন্সি বাছাই নিয়ে প্রশ্ন

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা চাই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হোক। তবে কোনো অসৎ ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান যেন সুবিধা না পায়।’

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কাজের জন্য ২৫টি মাস্টার এজেন্সি বাছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটির আগের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তাহলে কী মানদণ্ডে তাদের নির্বাচন করা হয়েছে, তা সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এসব এজেন্সির মাধ্যমে ১৫ থেকে ২২ কোটি টাকা বিনিয়োগের যে কথা শোনা যাচ্ছে, তা সত্য হলে তিনি এর নিন্দা জানান। সরকারকে এ বিষয়ে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা নেই—তা স্পষ্ট করতে হবে।

‘কোনো আমিনের নাম আর শুনতে চাই না’

জামায়াত আমির বলেন, ‘মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আমরা কোনো সিন্ডিকেট চাই না। সাধারণ শ্রমিকদের ওপর জুলুম-শোষণ চাই না। সিন্ডিকেটে আমার ভাই থাকলেও তাকে বের করে দেন।’

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এরই মধ্যে তিনবার বন্ধ হয়েছে। আবার চালু হওয়ার পর চতুর্থবার বন্ধ হোক, তা তাঁরা চান না। এটি দেশের জন্য অপমানজনক।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একজন ফ্যাসিস্ট আমলে মালয়েশিয়ায় সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিল। এখন পর্যন্ত সেটি কার্যকর আছে। সরকারকে বলব, বন্ধ করেন। কোনো আমিনের নাম আর শুনতে চাই না। এই আমিনরা কী করবে, বাংলাদেশ তা দেখে ফেলেছে।’

তিনি আরও বলেন, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান যদি মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার নিয়ে সমঝোতা করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশকেও তা করতে হবে। তবে বর্তমান ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণকে শোষণের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।

শ্রমবাজার সিন্ডিকেটমুক্ত করার ঘোষণা

জামায়াত আমির বলেন, তাঁরা আন্দোলন করে প্রবাসীদের ভোটাধিকার আদায় করেছেন। একইভাবে শ্রমবাজারকে সিন্ডিকেটমুক্ত করার আন্দোলনও চালিয়ে যাবেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা সাত দফা দাবিতে আন্দোলনের মাঠে আছি। আগামীতে শ্রমবাজার সিন্ডিকেটমুক্ত করার দাবিটি যুক্ত করে আট দফা করব ইনশাআল্লাহ। এসব দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে শুধু শ্রমবাজার নয়, বিভিন্ন খাতেও সিন্ডিকেট রয়েছে। সুযোগ পেলে এসব সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব থাকবে না। প্রথমে সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় ও স্বজনপ্রীতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

প্রবাসীদের অধিকার নিশ্চিতের দাবি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার বাদ দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে বলে শুনেছেন উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি করা হলে প্রবাসীদের ওপর জুলুম ও অবিচার হবে। তাঁরা তা মেনে নেবেন না।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের শুধু ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ বললেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাঁদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বৈধ ভিসাধারী বাংলাদেশিদের বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এভাবে কাউকে ফেরত পাঠানো শুধু তাঁর চাকরির অধিকারের ওপর আঘাত নয়, বরং একটি দেশকে অপমান করার শামিল। বিষয়টির সমাধানে সরকারের দায়িত্ব রয়েছে।

সরকারের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার বিভিন্ন জায়গায় সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারেও সরকারের সংশ্লিষ্টতায় সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘চব্বিশের পর এই ধারা বহাল থাকবে, তা আমরা কল্পনাও করিনি। কিন্তু যারা বড় বড় কথা বলেছিলেন, তাঁরাই এখন এতে লিপ্ত হয়ে গেলেন।’

তিনি আরও বলেন, জনগণের রক্ত শোষণ করে কোনো গোষ্ঠীকে সুবিধা নিতে দেওয়া হবে না। শ্রমবাজারে অনিয়ম বন্ধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মূল প্রবন্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল। ওই সিন্ডিকেটে কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ওই সিন্ডিকেট ১০০টি সাব-এজেন্টের কাছ থেকে লাইসেন্স বাবদ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আদায় করে। এছাড়া প্রতিটি শ্রমিকের কাছ থেকে সিন্ডিকেট ফি বাবদ ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা এবং মেডিকেল ফি বাবদ ৩ হাজার টাকা নেওয়া হতো। এতে মালয়েশিয়ায় যেতে শ্রমিকদের ব্যয় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দাঁড়াত।

ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরের দাবি, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছে। তিনি আরও দাবি করেন, দুদকের তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হলেও ৫১ জনকে ক্ষমা করা হয়েছে এবং মূল হোতাদের একজন এখনো অধরা রয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী প্রত্যাশা উপেক্ষা করে আবারও ২৫টি এজেন্সিকে কেন্দ্র করে নতুন সিন্ডিকেট গঠনের চেষ্টা চলছে। এতে অভিবাসন ব্যয় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি ২৫টি এজেন্সির তালিকা, লাইসেন্স ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সেমিনারে আরও বক্তব্য

জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ অনেকে।

সেমিনারটি পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad