সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বর ও কালিগঞ্জ থানার আশপাশে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপি এবং উপজেলা কৃষকদলের পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিকেল থেকে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। একপর্যায়ে কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শেখ হাসানুর রহমান ও শেখ নাজমুল হোসেনের সমর্থকদের সঙ্গে উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকন ও সালাউদ্দিন লিটনের সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষের মিছিল কালিগঞ্জ থানার কাছে মুখোমুখি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে উভয় পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও হামলায় জড়িয়ে পড়ে।
হাসপাতালে কয়েকজনসংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আল ইমরান হোসেনকে প্রথমে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত অন্যদের স্থানীয় ক্লিনিক ও কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগসংঘর্ষের জন্য দুই পক্ষই পরস্পরকে দায়ী করেছে। কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ হাসানুর রহমানের অভিযোগ, তাঁদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে রোকনুজ্জামান রোকনের সমর্থকেরা হামলা চালান।
অন্যদিকে রোকনুজ্জামান রোকনের দাবি, তাঁদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে শেখ হাসানুর রহমানের সমর্থকেরা আগে হামলা চালান। দুই পক্ষের এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কালিগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ঘোষ বলেন, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সমর্থকেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স