সরকারের ব্যর্থতার দায় বিরোধী দলের ওপর চাপিয়ে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বচাপ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে অক্ষমতার দায় সরকারকেই নিতে হবে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘জুলাই সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের দায়িত্ব পালনে ঘাটতি থাকলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। নিজেদের ভুলত্রুটি স্বীকার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই দায়িত্বশীল আচরণ। সীমাহীন ব্যর্থতার দায় বিরোধী দলের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
পদত্যাগ নয়, অপরাধের বিচারও নিশ্চিত করতে হবেচাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত সংসদ সদস্য মিষ্টির পদত্যাগ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে পদত্যাগ করানোর মাধ্যমে জনসমর্থন অর্জনের চেষ্টা করা হলেও পদত্যাগের মধ্য দিয়ে অপরাধের বিচার শেষ হতে পারে না। অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
বৈষম্য ও ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্নদেশে বৈষম্য বাড়ছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মানুষের মধ্যে নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রত্যাশার মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
কিন্তু জনগণের প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ঘাটতি রয়ে গেছে, পাশাপাশি বৈষম্যও বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তরুণেরা যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জীবন দিয়েছেন, তার বাস্তব প্রতিফলন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন জামায়াত আমির।
সরকারকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বানসরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতে বিরোধীদের বিরুদ্ধে নতুন বয়ান তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের ব্যর্থতার দায় বিরোধী দলের ওপর চাপানোর পরিবর্তে সরকারের উচিত নিজেদের দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, একদিকে সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ আসা ও অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ তোলা হচ্ছে, অন্যদিকে এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও মাদক প্রবেশের অভিযোগ থাকলে তা প্রতিরোধের দায়িত্ব সরকারের উল্লেখ করে তিনি এ ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক