ঘরে বসেই মিলবে জমির খতিয়ান, অনলাইনে আবেদনের নিয়ম ও ফি জানুন

  • শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ
  • আপলোড সময় : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৪ দুপুর
  • ১১৪৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com.monirulbd.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
জমির মালিকানা ও রেকর্ডসংক্রান্ত তথ্য জানতে এখন ঘরে বসেই অনলাইনে খতিয়ান অনুসন্ধান করা যায়। মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার থেকে সরকারি ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবা পোর্টালে প্রবেশ করে জমির অবস্থান, মৌজা ও জরিপের ধরন নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাওয়া সম্ভব। খতিয়ান নম্বর জানা না থাকলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দাগ নম্বর বা মালিকের নাম দিয়েও অনুসন্ধান করা যায়।

তবে অনলাইনে খতিয়ানের তথ্য দেখা এবং সরকারি বা আইনগত কাজে ব্যবহারের জন্য সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করা এক বিষয় নয়। তাই জমিসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ কপির জন্য আবেদন করতে হবে।

যেভাবে অনলাইনে খতিয়ান বের করবেন

সরকারি ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবা পোর্টালের মাধ্যমে কয়েকটি ধাপে খতিয়ান অনুসন্ধান করা যায়।

১. সরকারি পোর্টালে প্রবেশ: প্রথমে মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে dlrms.land.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। প্রয়োজনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের land.gov.bd ওয়েবসাইট থেকেও সংশ্লিষ্ট সেবায় যাওয়া যায়।

২. জমির অবস্থান নির্বাচন: জমিটি যে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা বা থানার অন্তর্গত, সেগুলো নির্বাচন করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট মৌজা নির্ধারণ করতে হবে। মৌজার নাম বা জে এল (JL) নম্বর জানা থাকলে সঠিক রেকর্ড খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

৩. জরিপের ধরন ও খতিয়ানের তথ্য দেওয়া: জমির রেকর্ড যে জরিপের অধীনে তৈরি হয়েছে, সে অনুযায়ী সিএস (CS), এসএ (SA), আরএস (RS), বিএস বা বিএআরএস (BS/BRS) খতিয়ানের ধরন নির্বাচন করতে হবে। এরপর খতিয়ান নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করতে হবে। নম্বর জানা না থাকলে পোর্টালে সুবিধাটি থাকলে ‘অধিকতর অনুসন্ধান’ অপশন ব্যবহার করে দাগ নম্বর বা মালিকের নাম দিয়ে খোঁজা যেতে পারে।

৪. অনুসন্ধানের ফলাফল যাচাই: পাওয়া রেকর্ডে মালিকের নাম, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণসহ প্রদর্শিত তথ্য নিজের কাছে থাকা দলিল ও অন্যান্য নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। একই নামে একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারেন। তাই শুধু নামের মিলের ভিত্তিতে জমির পরিচয় নিশ্চিত করা উচিত নয়।

৫. প্রয়োজনীয় কপির জন্য আবেদন: খতিয়ানের তথ্য পাওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী অনলাইন কপি বা সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করা যায়। এ ক্ষেত্রে পোর্টালে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুসারে আবেদনকারীর তথ্য পূরণ, প্রযোজ্য ফি পরিশোধ এবং কপি সংগ্রহের পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

খতিয়ান খুঁজতে যেসব তথ্য প্রয়োজন

অনলাইনে খতিয়ান অনুসন্ধানের জন্য সব তথ্য একসঙ্গে জানা বাধ্যতামূলক নয়। তবে নিচের তথ্যগুলো জানা থাকলে অনুসন্ধান সহজ হয়—

বিভাগ ও জেলা

উপজেলা বা থানা

মৌজার নাম অথবা জে এল নম্বর

খতিয়ানের ধরন বা জরিপের নাম

খতিয়ান নম্বর, যদি জানা থাকে

দাগ নম্বর অথবা মালিকের নাম

দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর ও মৌজার তথ্য এক নয়। একই মৌজায় একাধিক দাগ ও খতিয়ান থাকতে পারে। তাই অনুসন্ধানের সময় সঠিক তথ্য নির্বাচন করা জরুরি।

খতিয়ানের কপি সংগ্রহে কত টাকা লাগে

খতিয়ান অনুসন্ধান এবং কপি সংগ্রহের খরচ আলাদা। সরকারি পোর্টালে রেকর্ড খোঁজার সুযোগ থাকলেও কপি সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত ফি প্রযোজ্য হতে পারে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন খতিয়ানের কপির জন্য ১০০ টাকা এবং ডাকযোগে সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা আবেদন ফি ও ৪০ টাকা ডাক মাশুলের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে ফি পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত সর্বশেষ ফি ও পরিশোধের নির্দেশনা যাচাই করে নেওয়া উচিত।

অনলাইন কপি ও সার্টিফায়েড কপির পার্থক্য

অনলাইন কপি মূলত খতিয়ানের তথ্য দেখা ও সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে, সার্টিফায়েড কপি হলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়িত অনুলিপি, যা প্রয়োজন অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।

জমি কেনাবেচা, মামলা কিংবা অন্য কোনো সরকারি কাজে খতিয়ান জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জেনে নিতে হবে কোন ধরনের কপি গ্রহণযোগ্য।

অনলাইনে খতিয়ান না পেলে করণীয়

সঠিক তথ্য দেওয়ার পরও খতিয়ান না পাওয়া গেলে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রথমত, মৌজার নাম ও জে এল নম্বর সঠিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে কি না, তা দেখতে হবে। দ্বিতীয়ত, জমিটি কোন জরিপের অধীনে রেকর্ড করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হয়ে অন্য প্রযোজ্য জরিপের রেকর্ড অনুসন্ধান করতে হবে। খতিয়ান নম্বর জানা না থাকলে দাগ নম্বর বা মালিকের নাম দিয়ে অনুসন্ধান করা যেতে পারে।

পুরোনো ও নতুন জরিপের রেকর্ডে পার্থক্য থাকলে সংশ্লিষ্ট তথ্য মিলিয়ে দেখতে হবে। এরপরও রেকর্ড না পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে যোগাযোগ করা উচিত।

এ ছাড়া চলমান জরিপের খসড়া খতিয়ান এবং চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ান এক নয়। তাই খসড়া রেকর্ডকে চূড়ান্ত মালিকানার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

খতিয়ানে নাম থাকলেই কি মালিকানা নিশ্চিত?

খতিয়ান জমির রেকর্ডসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি হলেও শুধু খতিয়ানে নাম থাকলেই সব ক্ষেত্রে জমির মালিকানা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয় না। জমির দলিল, উত্তরাধিকারের তথ্য, নামজারি, দখল, সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড এবং প্রযোজ্য আইনগত বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হতে পারে।

বিশেষ করে জমি কেনার আগে দলিলের ধারাবাহিকতা, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও সীমানা যাচাই করা জরুরি। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস বা আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

প্রতারণা এড়াতে সতর্কতা

জমির খতিয়ান সংগ্রহের ক্ষেত্রে ভুয়া ওয়েবসাইট, নকল নথি ও প্রতারণামূলক অর্থ আদায়ের ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক থাকতে হবে। এ জন্য—

সরকারি ভূমি রেকর্ড পোর্টাল ব্যবহার করতে হবে।

অপরিচিত ওয়েবসাইটে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বা অর্থ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

ফি পরিশোধের আগে পোর্টালে প্রদর্শিত বিবরণ ও আবেদনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে হবে।

খতিয়ানের তথ্য নিয়ে সন্দেহ বা অসংগতি দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।

প্রয়োজন হলে ভূমিসেবা সহায়তা নম্বর ১৬১২২-এ যোগাযোগ করা যেতে পারে।

ঘরে বসে অনলাইনে খতিয়ান অনুসন্ধান করা জমিসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের একটি সহজ উপায়। তবে জমি কেনাবেচা বা আইনগত কাজে ব্যবহারের আগে খতিয়ানের তথ্যের সঙ্গে মূল দলিল ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি মিলিয়ে দেখা জরুরি।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad